স্বরূপ দত্ত, আমাদের ভারত, উত্তর দিনাজপুর, ২৫ সেপ্টেম্বর: একেবারে ফিল্মি কায়দায় জাতীয় সড়কে ওষুধ বোঝাই লরির পিছু নিয়েছিল দুষ্কৃতিরা। দুটি গাড়ি নিয়ে গুলি ছুড়তে ছুড়তে লরি থামাবার চেষ্টা করে দুষ্কৃতিরাl লরিটিকে আটকে দিলেও অপারেশনে বিফল হয়। কারণ বাইকে সওয়ার এক “সিঙ্ঘম” পুলিশ অফিসার দুষ্কৃতিদের তাড়া করে। শুরু হয় গুলির লড়াই। শেষ পর্যন্ত গুলি ছুড়তে ছুড়তে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতিরা। শুক্রবার রাতে এমনই ঘটনার সাক্ষী থাকল উত্তর দিনাজপুরের করণদিঘি।
স্থানীয় সুত্রে খবর, গতকাল রাতে রায়গঞ্জের দিক থেকে ডালখোলার দিকে ৩৪নং জাতীয় সড়ক ধরে যাচ্ছিল একটি লরি। সে সময় করণদিঘি থানার বোতলবাড়ি এলাকায় ওই লরির পিছু নেয় দুটি গাড়ি। আচমকাই ওই দুটি গাড়ি থেকে গুলি বর্ষন শুরু হয়। সঙ্গে লরি থামানোর হুমকি। যদিও ঝুঁকি নিয়েই লরি চালক জোরে চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু করণদিঘি থানার নাকোল এলাকায় লরিটিকে আটকাতে সফল হয় দুষ্কৃতিরা। তবে সোরগোল দেখে কাছাকাছি থাকা একটি ধাবা থেকে আরো লরি চালক ও অন্যান্যরা এগিয়ে আসতে থাকে। তাই দেখে দুটি গাড়ি নিয়েই চম্পট দেয় ওই দুষ্কৃতি দল।

এদিকে খবর জানতে পেয়ে জাতীয় সড়কে গার্ড দিয়ে ঘিরে দেয় পুলিশ। কিন্তু দুই গাড়ি দুটি বাধা সজোরে উড়িয়ে পালিয়ে যায়। সে সময় এলাকায় ডিউটিতে থাকা করণদিঘির ট্র্যাফিক ওসি ঋদম সাহা কর্তব্যরত এক সিভিক ভল্যান্টিয়ারকে তাঁর মোটর বাইক নিয়ে গাড়ি দুটির পিছু ধাওয়া করেন। সঙ্গে সঙ্গে করনদিঘি থানাতেও রিপোর্ট করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুলিশকে পিছু নিতে দেখে চলন্ত গাড়ি থেকে ধেয়ে আসতে থাকে গুলি। অবশেষে ঝাড়বাড়ি এলাকায় বিপরীত দিক থেকে, করনদিঘি থানার পুলিশ তাদের পথ আটকে দাড়িয়ে পড়ে। তাই দেখে একটু আগেই গাড়ি থামিয়ে গুলি করতে করতে চম্পট দেয় দুষ্কৃতিরা। বিহারের নম্বর প্লেট লাগানো একটি মারুতি অল্টো গাড়ি ফেলে যায় তারা। তবে, আরেকটি গাড়ির হদিশ মেলেনি।

ছবি: লরি চালক রহিস আলি।
পুলিশের অনুমান, বিহার সীমানা লাগোয়া করণদিঘি এলাকায় নয়া জাতীয় সড়ক এখন ছিনতাইকারীদের সেফ করিডোর। ওষুধ বোঝাই ওই লরিটি ছিনতাইয়ের ছক কষেই এই ঘটনা বলে পুলিশের বক্তব্য। স্থানীয়দের মধ্যে এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রাতে জাতীয় সড়কের উপর এই দৃশ্য দেখে একদিকে যেমন আতঙ্ক, অন্যদিকে পুলিশ অফিসারের কীর্তি দেখেও হতচকিত হয়ে পড়েন অনেকে। তবে এই ঘটনায় কেউ গুলিবিদ্ধ হননি। গাড়ির চালক আহত বলে জানা গেছে।

