আমাদের ভারত, ১৪ অক্টোবর:
একের পর এক মন্ডপে ঢুকে তাণ্ডব দুষ্কৃতীদের। প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে প্রতিমা ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। হ্যাঁ এমনই শতাধিক ভয়াবহ ঘটনার খবর পাওয়া গেছে বাংলাদেশ থেকে। গত ২৪ ঘন্টায় সে দেশের বিভিন্ন স্থানে দুর্গা প্রতিমা ভাঙ্গচুরের অন্তত ১০০টি ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে সেদেশের হিন্দু কাউন্সিল। নিন্দার ঝড় উঠেছে সব মহলে। তাদের অভিযোগ, সনাতন ধর্ম ও সনাতনীদের শেষ করে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে।
কুমিল্লার নানুয়া দিঘিতে বুধবার সন্ধ্যায় দুর্গাপুজোর প্যান্ডেলে হামলা চালায় একদল উত্তেজিত জনতা। দেবী দুর্গার পায়ের কাছে পবিত্র কোরান রাখা হয়েছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই হামলা চলে, বলে জানা যায়। প্রতিমাটি ভেঙ্গে একটি পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। কোরান রাখা খবরটি হোয়াটসঅ্যাপে ছড়িয়ে ছিল। একই সঙ্গে উস্কানিমূলক মন্তব্য ও ছবি শেয়ার হতে থাকে। ফলে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। স্থানীয়দের দাবি, পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। পুলিশ আসার আগেই প্রতিমা ভেঙ্গ গুঁড়িয়ে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ।
কুমিল্লার হিংসার ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমে। কুমিল্লা ছাড়াও চাঁদপুরের হাজিগঞ্জ চট্টগ্রাম, বংশখালি ও কক্সবাজারের পেকুয়া মন্দির সহ ১০০টি এলাকায় দুর্গা পুজো মণ্ডপে ভাঙ্গচুরের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আধা-সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
https://twitter.com/UnityCouncilBD/status/1448242612285018115?t=IAs5Sha38cIDt6GnjMf1rg&s=08
বাংলাদেশ হিন্দু ইউনিটি কাউন্সিল টুইট করে সমস্ত ঘটনা জানান। বাংলাদেশের হিন্দু কাউন্সিল লিখেছে, “বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কলঙ্কজনক দিন। গত ২৪ ঘন্টায় যা ঘটেছে তা আমরা টুইটে প্রকাশ করতে পারি না। বাংলাদেশের হিন্দুরা কিছু মানুষের আসল চেহারা দেখেছে। ভবিষ্যতে কি হবে তা আমরা জানি না কিন্তু বাংলাদেশের হিন্দুরা ২০২১ সালের দুর্গাপুজো ভুলবে না।”

