সাথী দাস, পুরুলিয়া, ১৪ নভেম্বর: স্কুল খুলতেই ভেঙ্গে পড়ল ছাদের চাঙ্গড়। বরাত জোরে বড় বিপদ থেকে রক্ষা পেল পড়ুয়ারা। আজ স্কুল খোলার সময় সকাল দশটা নাগাদ পুরুলিয়ার নিতুড়িয়ার পারবেলিয়া কোলিয়ারী উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ঘটনাটি ঘটে। বিপজ্জনক অবস্থায় এখনও রয়েছে ওই স্কুলের দোতলা ভবনটি।

স্কুলে গিয়ে দেখা গিয়েছে, দোতলার ছাদ থেকে খসে পড়ছে পলেস্তারা। বড় বড় চাঙ্গড় মাথায় যে কোনও সময় খসে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ক্লাসরুমগুলোতে পঠন পাঠনের উপযুক্ত পরিকাঠামোই নেই। ক্লাসরুমের দরজা জানালার অবস্থাও শোচনীয় হয়ে রয়েছে। স্কুলের কোনও রুমে ইলেকট্রিকের ওয়্যারিং ঠিক নেই। কোনও রকমে জোড়াতালি দিয়ে কাজ চলছে। বিপজ্জনক অবস্থায় বিদ্যুতবাহিত তার খোলা অবস্থায় পড়ে রয়েছে স্কুল ভবনের বিভিন্ন জায়গায়। চারিদিক জঙ্গল থাকায় মশার উপদ্রব রয়েছে। গোটা স্কুল জুড়ে রয়েছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ।

স্কুলটি নিয়ে ভুরি ভুরি অভিযোগ থাকলেও অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে অবসর গ্রহণ করেছেন প্রধান শিক্ষক। স্কুলে মিড ডে মিল রান্নার দলপতি দুর্গা দে বলেন, “রান্নার জলের প্রচণ্ড সমস্যা রয়েছে। বেশ কিছুটা দূর থেকে রান্নার জল আনতে হয়। একাধিকবার জানিয়েও লাভ হয়নি। চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে দশ মাস হল আমরা দুটি গ্রুপের এগারো জন বেতন পাইনি। আমরা গরিব মানুষ। এটার উপরই ভরসা। কি করে সংসার চালাবো ভেবে পাচ্ছি না।”
স্কুল পরিচালন কমিটির প্রাক্তন সভাপতি বুলু দে বলেন, “স্কুলের আয়-ব্যয়ের হিসাবে প্রচুর গরমিল থাকায় আমি প্রধান শিক্ষককে কোনও রকম সহযোগিতা করিনি।” তাঁর কথায়, “স্কুলের পরিচালন কমিটির তৎকালীন সভাপতি হওয়ার পর স্কুল তহবিল থেকে ধাপে ধাপে দশ লক্ষ টাকা তোলা হয়েছিল। কী কী খাতে কত টাকা খরচ হয়েছে তার হিসেব পাইনি। স্বচ্ছ হিসাব না দেওয়ায় চেকে সই করিনি।”

প্রধান শিক্ষক ও স্কুলের পরিচালন কমিটির সভাপতির মধ্যে সুসম্পর্ক না থাকায় স্কুলে সমস্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে বলে জানান অভিভাবকরা। স্কুলের উন্নয়ন হোক, স্কুলের পঠন-পাঠন আবার আগের মত ফিরে আসুক চাইছেন স্থানীয়রা। দীর্ঘ পাঁচ ধরে চলে আসা স্কুলের যাবতীয় সমস্যার জট কখন খুলবে তার দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে সবাই। ভার প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সত্যপ্রিয় গুরু বলেন, “দু সপ্তাহ হল এসেছি, পুরোপুরি দায়িত্ব পাইনি। তবে, স্কুলের এই অবস্থার কথা সবাই জানেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। আজ বরাত জোরে ছাত্র ছাত্রীরা বেঁচে গিয়েছে। এখন দোতলার ওই বারান্দায় যাতায়াত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।”

