আমাদের ভারত, ২৮ আগস্ট: শুভেন্দু অধিকারীর যেমন কথা তেমন কাজ। ছাত্র সংঘর্ষে উত্তপ্ত যাদবপুরের ঘটনায় হুঁশিয়ারি দেওয়ার সঙ্গে যাদবপুরে জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠার দাবি করে দশ হাজার কন্ঠে বন্দে মাতরম গাইবার যে কথা তিনি দিয়েছিলেন, ঘোষিত দিনেই তা করেও দেখালেন। হাজার হাজার মানুষ তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে উপস্থিত হলেন যাদবপুরে।
দশ হাজার কন্ঠে উচ্চারিত হলো বন্দেমাতরম। ভারত মাতার বন্দনায় ঐক্য ও দেশপ্রেম জাগ্রত করতে এই আয়োজন। এমন দৃশ্য বোধহয় যাদবপুর আগে দেখেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে যাদবপুর থানা পর্যন্ত রাস্তার দু’ধারে জাতীয় পতাকা হাতে বহু মানুষ। বিজেপি, এবিভিপি ছাড়াও সাধারণ মানুষ হাতে হাতে তেরঙ্গা নিয়ে দাঁড়িয়ে। তারা সকলে মুখ্যমন্ত্রীর ডাকে সাড়া দিয়ে ১০ হাজার কণ্ঠে বন্দেমাতরম অনুষ্ঠানে শামিল হয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে গলা মিলিয়ে গেয়েছেন বন্দেমাতরম গানের ছয়টি স্তবক।
যাদুরপুরের ছাত্র সংঘর্ষের পর তিনি বলেছিলেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে ও বাইরে রাষ্ট্রবাদ প্রতিষ্ঠা করব। সবাইকে বন্দে মাতারাম গাইতে হবে। শুক্রবার বিকেলে যাদবপুরে তারই সত্যতা প্রতিফলিত হলো। ২৮ আগস্ট শুক্রবার যাদবপুরে দশ হাজার কন্ঠে বন্দেমাতরম অনুষ্ঠানের বিশাল আয়োজন হয়।
১৯ ও ২০ আগস্ট যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে নজির বিহীন ছাত্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘিরে পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এই প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কার্যত হুঁশিয়ারির সুরে বলেছিলেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় বন্দেমাতরম গাইতে দেয় না। জাতীয় পতাকা ওড়ে না এখানে, কিন্তু আমরা যাদবপুরের ভেতরে ও বাইরে জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করবোই। দেশপ্রেম, জাতীয়তাবাদ, রাষ্ট্রবাদের সঙ্গে কোনো আপোষ নয়। পরে তিনি ঘোষণা করেছিলেন, রাখি বন্ধনের দিন যাদবপুরে দশ হাজার কন্ঠে বন্দে মাতরম গাওয়া হবে। আয়োজন করবে যাদবপুর সংগঠনিক জেলা বিজেপি।
সেই অনুযায়ী শুক্রবার বিকেলে অনুষ্ঠানটি হয়। গোটা চত্বর মুড়ে ফেলা হয় নজিরবিহীন নিরাপত্তায়। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪টি গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। শুধুমাত্র এক নম্বর গেট দিয়ে যাতায়াত করা যাচ্ছিল। ২৮ আগস্ট শুক্রবার যাদবপুরে এইটবি বাসস্ট্যান্ডে ১০ হাজার কণ্ঠে বন্দেমাতরম অনুষ্ঠানে সাধারণ মানুষের জমায়েতের ছবি ছিল চোখে পড়ার মত। মূল অনুষ্ঠানস্থল অর্থাৎ, এইটবি বাসস্ট্যান্ডের সামনের রাস্তায় বিশাল এলইডি স্ক্রিন লাগানো হয়। তাতে লেখা ভারত মাতার ঐক্য, দেশপ্রেমের গর্ব ১০ হাজার কণ্ঠে উচ্চারিত হবে বন্দেমাতরম।
শুভেন্দু অধিকারী নিজে গোটা বন্দেমাতরম গানটি গান। বাকিরা যাতে গাইতে পারেন তার জন্য প্রত্যেকের হাতে হিন্দি ও ইংরেজিতে বন্দেমাতরম গানটির কথা লেখা কাগজও দেওয়া হয়।

