কাশ্মীরি সুন্দরী, মিস ইন্ডিয়া ও গ্রিন আপেলের চাষ করে তাক লাগিয়েছেন দ. দিনাজপুরের অরবিন্দ সরকার

নিজস্ব সংবাদদাতা, আমাদের ভারত, বালুরঘাট, ২০ জানুয়ারি: দেখতে অবিকল আপেলের মতো। কিন্তু আদতে কুল। কেবলমাত্র আপেলের আকৃতিই নয়, রংটাও একবারে আপেলের মতো। এই কুলের নাম‌ কাশ্মিরী সুন্দরী।

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট ব্লকের পতিরামের কাছে লক্ষ্মীপুর এলাকায় চাষ করা এই কুলের এখন ব্যাপক চাহিদা বালুরঘাট সহ গোটা দক্ষিণ দিনাজপুরে। বাজারে আসার পরে তা অনায়াসেই গড়ে ১২০ টাকা কেজি দরে বিকোচ্ছে। ডিজিটাল যুগে ইউটিউবকে হাতিয়ার করে জেলার কৃষকদের বিকল্প চাষের দিশাও দেখাতে শুরু করেছেন পতিরাম এলাকার বাসিন্দা তথা কৃষক অরবিন্দ সরকার, যা নজর কেড়েছে জেলার উদ্যান পালন দপ্তরেরও।

তবে শুধুমাত্র কাশ্মীরি সুন্দরী কুলই নয়, পাওয়া যাচ্ছে মিস ইন্ডিয়া, গ্রিণএ্যাপেল, চেরি আপেল ও বল সুন্দরী সহ মোট ৫ প্রজাতির কুল চাষ করে সাড়া ফেলেছেন গোটা দক্ষিণ দিনাজপুরেই।

আজ থেকে প্রায় ১২ বছর আগে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার পতিরাম থানার লক্ষ্মীপুর এলাকায় যে আপেল কুল চাষ হয়েছিল সেটিও তার হাতেই শুরু হয়েছিল। আর তাই এবারেও পরীক্ষামূলকভাবে ওই ৫ প্রজাতির কুল প্রায় ৩ বিঘা জমিতে চাষ করেছেন লক্ষ্মীপুরের বাসিন্দা অরবিন্দ সরকার। তিনি জানান, এই কুল চাষ করে অন্য চাষের তুলনায় লাভ প্রায় ৩ গুণ বেশি। বাড়ি থেকেই কেজি প্রতি ৭০-‌৮০ টাকা দরে বিক্রি করছেন তিনি। কিন্তু বাজারে তা ১২০ টাকা দরে বিকোচ্ছে দোকানীরা। তবে তাঁর আক্ষেপ দীর্ঘদিন ধরে জেলায় নতুন প্রজাতির ফল চাষ করে জেলায় কৃষকদের নতুন দিশা দেখালেও সেভাবে আজও প্রশাসনিক কোনও সাহায্যই পাননি তিনি। এই চাষাবাদের জন্য অন্যতম সমস্যা হল জলের, যা আজও সেচের বিকল্প ব্যবস্থা করতে পারেননি তিনি। প্রশাসনের কাছে দরবার করেও মেটেনি সমস্যা। জেলা উদ্যান পালন দপ্তরের তরফে তাঁকে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে গিয়ে জেলার সুনাম বাড়ানোর চেষ্টা হলেও আদতে তাঁর কোনও লাভই হয়নি।

যদিও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা উদ্যান পালন দপ্তরের আধিকারিক সমরেন্দ্র নাথ খাঁড়া জানান, জেলায় কাশ্মীরি সুন্দরী, মিস ইন্ডিয়া, গ্রিন আপেল, চেরি আপেল ও বল সুন্দরী কুল চাষ প্রথম শুরু করেছেন পতিরাম থানার লক্ষ্মীপুর এলাকায়। জেলার গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্ট হিসাবে আমরা ইতিমধ্যেই প্রচার শুরু করেছি, চলছে হ্যান্ডবিল বিলিও। কৃষকদের মধ্যে এই কুল চাষের উৎসাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেবার পাশাপাশি দপ্তরের তরফে ওই কুল চাষীর সমস্ত সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ ও নেওয়া হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *