আমাদের ভারত, ১৫ আগস্ট: দেশের ৮০তম স্বাধীনতায় লালকেল্লা থেকে মাওবাদী মনোভাবাপন্নদের চুড়ান্তভাবে সতর্ক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মোদী বলেন, সশস্ত্র নকশালদের সংখ্যা কমে গেছে, কিন্তু দেশে মাওবাদ মনোভাবাপন্নরা ঘুরে বেড়াচ্ছেন। সেইসব মাওবাদ মনোভাবাপন্নকেই দিমাগি নকশাল বলে উল্লেখ করে তাদের চিহ্নিতকরণ করতে এবং বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন তিনি।
দেশকে মাওবাদী মুক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ২০১৪ সালে ক্ষমতায় এসেই প্রতিজ্ঞা করেছিলেন দেশকে মাওবাদী মুক্ত করা হবে। ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে লালকেল্লার মঞ্চ থেকে সেই প্রতিজ্ঞার কথা স্মরণ করালেন তিনি। তাঁর কথায়, মাওবাদীরা দেশকে রক্তাক্ত করেছে। ২০১৪ সালে আপনারা যখন আমাদের সুযোগ দিলেন সেই দিন থেকে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, দেশকে মাওবাদী মুক্ত করবো। প্রধানমন্ত্রী জানান, মাওবাদী আন্দোলনকে দুর্বল করে দেওয়া গেছে। তারপরই তিনি দিমাগি নকশাল কথাটি ব্যবহার করেন, অর্থাৎ যারা মাওবাদী মনোভাবাপন্ন, তারা এ দেশেই ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে কটাক্ষ করেন তিনি। মোদী বলেন, এদের চিহ্নিত করতে হবে ও বিচ্ছিন্ন করে দিতে হবে। যাতে দেশের সমাজব্যবস্থাকে তারা কোনভাবেই নিজেদের ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ করতে না পারে।
মোদীর কথায়, দেশে অশান্তির বাতাবরণ সৃষ্টি করতে চাইছে মাওবাদী মনোভাবাপন্নরা। সমাজকে টেনে নিচে নামানোর চেষ্টা করছেন, তাই তাদের চিহ্নিত করে সমাজ থেকে একেবারে বিচ্ছিন্ন করে দিতে হবে এবং তরুণ প্রজন্মকে দেশের উন্নয়নের ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে। কিভাবে যুব সম্প্রদায়কে তাদের পরিবারকে মাওবাদীরা প্রভাবিত করেছেন সে প্রসঙ্গ তুলে ধরেন মোদী। তিনি জানান, মাওবাদীরা দেশে তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নষ্ট করেছে। দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বছরের পর বছর ধরে হিংসা ও রক্তপাত ঘটিয়েছে। মাওবাদীদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে কত নিরাপত্তা রক্ষী পুলিশ কর্মী অফিসারের মৃত্যু হয়েছে। লাখ লাখ তরুণ- তরুণীর স্বপ্ন নষ্ট করেছে মাওবাদ, নকশাল বাদ। কত মায়ের কাছ থেকে সন্তানকে কেড়ে নিয়েছে। ৪ দশক ধরে দেশের বেশিরভাগ অংশে বন্দুক নিয়ে দাপিয়ে বেরিয়েছে মাওবাদীরা। সংবিধানকে লঙ্ঘন করেছে। সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি নিরাপত্তা কর্মী দক্ষিণ মাওবাদীদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছেন, মাওবাদীরা এখন তাদের শেষ প্রহর গুনছেন।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঘোষণা করেছিলেন, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে দেশকে মাওবাদী মুক্ত করা হবে। দেশের মাওবাদী প্রভাবিত রাজ্যগুলিতে একের পর এক অভিযান চালানো হয়েছে। গত এক বছরের মধ্যে কয়েকশো সশস্ত্র মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছেন। তাদের জীবনের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনার কাজও শুরু হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে মাওবাদীদের অনেক শীর্ষ নেতার যেমন মৃত্যু হয়েছে, তেমনই আবার বেশ কিছু নেতা আত্মসমর্পণ করেছে। দেশকে মাওবাদী মুক্ত করার লক্ষ্যে একের পর এক পদক্ষেপ করা হয়েছে। আত্মসমর্পণ করা মাওবাদীদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

