KK “লজ্জা হচ্ছে না বাংলা,“ কেকে-র মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন লেখিকা-প্রকাশিকা সন্দীপার

আমাদের ভারত, ১ জুন: কেকে-র মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন তুললেন লেখিকা-প্রকাশিকা সন্দীপা বসু। বুধবার এ ব্যাপারে তাঁর ফেসবুক পোস্টে ২ ঘন্টায় ২২টি মন্তব্য এসেছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিদিশা বসুর নেতিবাচক অভিজ্ঞতা ভাগ করে সন্দীপা লিখেছেন, “একটা কথা পরিষ্কার – এমন হওয়ারই ছিল। না হলেই হয়ত আশ্চর্যের হত। একে এই অসহ্য গরম। তার ওপর চারগুণ লোক, বন্ধ হলঘরে সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে পড়া এসি এবং সর্বোপরি কিছু চূড়ান্ত অশিক্ষিত মানুষের অপরিণামদর্শী কার্যকলাপ – স্টেজের চারপাশ ভিড় করে ঘিরে ধরে হাওয়া চলাচল বন্ধ করা, শিল্পীর কষ্ট হচ্ছে জানার পরেও সে কথায় কান না দেওয়া, ফায়ার এক্সটিংগুইশার থেকে স্প্রে করা, যা কিনা মূলত কার্বন ডাই অক্সাইড… এমন উন্মাদের মত ব্যবহার কেন?

এরা কারা? ছাত্র? সত্যিই? কলেজ ফেস্ট তো নতুন কিছু নয়। সেখানে বিখ্যাত শিল্পীদের পারফরমেন্সও নতুন ব্যাপার নয়। তাঁকে ঘিরে ছাত্রদের উন্মাদনাও নতুন নয়। কিন্তু এ কেমন অরাজকতা যে একজন শিল্পীর অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হয়?

অতীতে একসময় কলকাতায় পারফর্ম করে সুন্দর স্মৃতি নিয়ে ফিরতেন বড় বড় শিল্পীরা। সে কথা তাঁরা অনেকেই নিজ মুখে জানিয়েছেন। তাঁদের কথায় শোনা গিয়েছে কলকাতার শ্রোতা/দর্শকের প্রশংসা। অথচ কাল এই শহরে যা হল, সন্দেহ হয় এরপর আর কোনও তেমন শিল্পী এখানে পারফর্ম করতে আসতে চাইবেন কি?

অবশ্য বাংলার আরও একটা মুখ আছে, যে কি না রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃত্যুর পর শোকযাত্রার সময় তাঁর মুখ থেকে দাড়ি উপড়ে নিতে দ্বিধা করেনি। এতদিন সেই মুখটি প্রছন্ন ছিল। যত দিন যাচ্ছে ক্রমশ দেখছি সেই মুখটিই প্রকট হয়ে উঠছে। হারিয়ে যাচ্ছে সুন্দর, সংস্কৃতিমনষ্ক, শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মুখটি। সন্দেহ হয়, তাহলে এই কি আসল পরিচয় আমাদের? অশিক্ষিত, অপদার্থ, অপরিণামদর্শী হিংস্র একদল শ্বাপদ? অন্যটা কেবলই মুখোশ?

কেকে অসামান্য সঙ্গীতশিল্পী ছিলেন। আমাদের অনেকেরই অনেক আবেগ, স্মৃতি জড়িয়ে তাঁর গানের সঙ্গে। তাঁর মৃত্যু অবশ্যই এক বিরাট ক্ষতি। কিন্তু সেই শোকের থেকেও কোথাও যেন বড় হয়ে উঠছে লজ্জা। আমাদের শহরে, যাকে নিয়ে আমাদের এত গর্ব, সেখানে গান গাইতে এসে একজন শিল্পীকে এই পরিস্থিতির সামনে পড়তে হল? লজ্জা হচ্ছে না বাংলা?“

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *