আমাদের ভারত, ১ জুলাই: শেষ পর্যন্ত গ্রেপ্তার হলেন বিধান নগর পৌরসভার প্রাক্তন দাপুটে তৃণমূল কাউন্সিলর দেবরাজ মুখার্জি। কলকাতা হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হতেই পুলিশের জালে ধরা পড়েন তিনি। তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়িকা তথা কীর্তন গায়িকা অদিতি মুন্সির স্বামী দেবরাজকে বুধবার পুরুলিয়া থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন বিপুল সম্পত্তি এবং নির্বাচনী হলফনামায় তথ্য গোপনের মামলায় কিছুদিন আগেই বড় ধাক্কা খেয়েছিলেন দেবরাজ চক্রবর্তী। হাইকোর্ট তার আগাম জামিনের আর্জি খারিজ করে দেওয়ায় দেবরাজের গ্রেপ্তারে আর কোনো আইনি বাধা ছিল না। তবে চার মাসের শিশু সন্তানের কথা বিবেচনা করে তার স্ত্রী তথা রাজারহাট গোপালপুরের প্রাক্তন বিধায়কা ও জনপ্রিয় গায়িকা অদিতি মুন্সির আগাম জামিল মঞ্জুর করেন বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত। জামিন পেলেও অদিতিকে তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
দেবরাজ চক্রবর্তী গ্রেফতার হতেই স্বাভাবিকভাবে
চাঁচাছোলা ভাসায় আক্রমণ শানিয়েছে পদ্ম শিবির। তার বিরুদ্ধে সরব হওয়া বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি দেবরাজকে আক্রমণ করে বলেন, ডাকাত গ্রেপ্তার হয়েছে। এবার এলাকার মানুষ শান্তি পাবে।
বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারির মূল অভিযোগ ছিল, গত পাঁচ বছর ধরে রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রভাব ব্যবহার করে বেআইনিভাবে বিপুল সম্পত্তি তৈরি করেছেন দেবরাজ ও তার স্ত্রী অদিতি মুন্সি। নির্বাচনের সময় নিজেদের আসল সম্পত্তি আড়াল করতে এবং হিসাব বহির্ভূত কালো টাকা সাদা করার উদ্দেশ্যে অন্তত ১০০ কোটি টাকার বিপুল সম্পত্তি আত্মীয়দের নামে স্থানান্তর করেছেন এই দম্পতি।
মামলার শুনানিতে রাজ্যের আইনজীবীর তরফেও আদালতে একগুচ্ছ মারাত্মক তথ্য পেশ করা হয়। সেখানে দাবি করা হয়, রাজারহাট নিউটাউন ও লিলুয়া এলাকায় দেদার তোলাবাজি, প্রমোটারদের হুমকি এবং জোর করে জমি দখলের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার এই রাজপ্রাসাদ গড়ে তুলেছেন দেবরাজ। শুধু তাই নয়, ভোটের ঠিক আগে তাকে তাদের কালিম্পং- এর একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সহ একাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে সমস্ত টাকা রহস্যজনকভাবে অন্য জায়গায় সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে আদালতে দাবি করে রাজ্য।
চাকরি দুর্নীতি থেকে শুরু করে তোলাবাজি মামলায় নাম জড়িয়ে গত কয়েকদিন ধরেই কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন দেবরাজ। গ্রেপ্তারি এড়াতেই গা-ঢাকা দিয়েছিলেন পুরুলিয়াতে বলে দাবি অনেকের। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। হাইকোর্টের রক্ষা কবচ সরতেই গ্রেফতার হলেন দেবরাজ চক্রবর্তী। ঘাস ফুল শিবিরের এই হাইপ্রোফাইল নেতার গ্রেফতারি ঘিরে উত্তেজনার পারদ চড়ছে রাজ্য রাজনীতিতে।

