সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাকুঁড়া, ২০ জানুয়ারি: হাতির আক্রমণে প্রাণ হারালেন এক ব্যক্তি। এছাড়াও আহত হন দু’জন। এই ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে ছাতনার ঝগড়াপুর গ্ৰামে। আজ সকালে এই ঘটনা ঘটে।
গ্রামের প্রান্তে ঝোঁপ জঙ্গলে দল বেঁধে বুনো হাতি ঘাঁটি গেড়েছে বলে খবর ছড়িয়ে পড়তেই অসংখ্য মানুষ দাঁতাল বাহিনীর তান্ডব দেখতে ভিড় জমিয়েছিলেন। আচমকা একটি জংলি দাঁতাল ক্ষিপ্ত হয়ে জনতার দিকে তেড়ে আসে। দৌড়ে পালিয়ে যান হাতি দেখতে আসা জনতা। সেই সময় পায়ে পা লেগে পড়ে যান এক বৃদ্ধ। তাকেই শুঁড়ে পেঁচিয়ে আছাড় মারে মত্ত দাঁতালটি। তারপর দৌড়ে গিয়ে আরও দু’জনকে জখম করে হাতিটি। তারাও গুরুতর জখম হন। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ বাঁকুড়ার ছাতনা থানার বাবুপাড়া এলাকায়। পুলিশ জখম ৩ জনকেই বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা একজনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। বাকি দু’জন চিকিৎসাধীন। পুলিশ জানিয়েছে মৃতের নাম ভবতোষ শীট (৭০)। বাড়ি স্থানীয় ঝগড়াপুর গ্রামে। তিনি ছাতনা দু’ নং গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান ও একটি স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষক। জখম ব্যক্তিরা হলেন শীতলঝোড় গ্রামের স্বপন ভুঁই(৪৭) ও দুবরাজপুরের বিদ্যুৎ বাউরি (২৬)।
ছাতনার বিজেপি নেতা জীবন চক্রবর্তী এই ঘটনার জন্য বন দফতরের উদাসীনতাকেই দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, বাঁকুড়া জেলা হাতি উপদ্রুত এলাকা হলেও ছাতনা এলাকায় কোনও দিন হাতি হামলা চালায়নি। বুধবার দক্ষিণ বাঁকুড়ার সিমলাপাল ব্লক থেকে হুলা পার্টি দিয়ে হাতি গুলিকে ড্রাইভ দিয়ে নিয়ে আসে বন দফতর। এদিন রাজগ্রাম হয়ে দ্বারকেশ্বর পেরিয়ে ১০-১২ টি হাতির একটি দল ছাতনায় ঢুকে। যখন ঘটনাটি ঘটে তখন বন কর্মীরা হাতি গুলিকে নজর রাখছিল। তারা কিভাবে হাতি দেখার জন্য এত লোকের ভিড়কে সমর্থন করল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
এদিকে হাতি সমস্যা সমাধানের সংগঠন সংগ্রামী গণমঞ্চের জেলা সম্পাদক শুভ্রাংশু মুখার্জি বলেন, অবিলম্বে হাতি সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে ময়ূর ঝরনা প্রকল্পের বাস্তব রূপায়ণ করতে হবে। বছরের পর বছর হাতির হানায় মানুষ মারা যাচ্ছেন। বহু মানুষ জখম হচ্ছেন। ঘরবাড়ি ভাঙছে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, কয়েক দিন আগে সিমলাপালের হাতিবাড়ি গ্রামের ধনঞ্জয় টুডুকে আছাড় মেরে কোমর ভেঙেছে এবং তালডাংরার ভাঙাবাঁধের এক বনকর্মীর পা পিষে দিয়েছে। দুজনেই চিকিৎসাধীন। তার দাবি, মৃতের পরিবারের হাতে ক্ষতিপূরণের ৫ লক্ষ টাকা ও একজনকে চাকরি দিতে হবে এবং জখম ব্যক্তিরা কর্ম ক্ষমতা ফিরে না পাওয়া পর্যন্ত মাসিক ভাতা দিতে হবে। নাহলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুমকি দেন তিনি।
এ বিষয়ে ছাতনার রেঞ্জ অফিসার এষা বোস বলেন, হাতির দলটিতে ৩ বাচ্চা হাতি সহ ১০ টি হাতি বাবু পাড়া জঙ্গলে রয়েছে ।এদিন সন্ধ্যার পর হাতিগুলোকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। নিয়মানুযায়ী মৃতের পরিবারের হাতে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে এবং জখম ব্যক্তিদের চিকিৎসার সব রকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

