“বিএসএফ কাণ্ডে অমিত শাহকে ক্ষমা চাইতে হবে,” বললেন কুণাল

সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ২৮ আগস্ট: বিএসএফ কাণ্ডে অমিত শাহকে ক্ষমা চাইতে হবে। কলকাতায় এমনই বললেন তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। রবিবার বিকেলে উত্তর ২৪ পরগনার বাগদায় এসে ফের সুর চড়ালেন কুণাল। তিনি বলেন, ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফের ধর্ষণ কাণ্ডে এলাকার মানুষ আতঙ্কে ভুগছে। বিএসএফের বিরুদ্ধে ভুরিভুরি অভিযোগ। কেউ নিজেদের সন্মানের খাতিরে মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছে, তো কেউ কেউ প্রকাশ্যে বিএসএফের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে। এমন চলতে দেওয়া যায় না। তৃণমূলের পক্ষ থেকে আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানাবো।

দুর্নীতি কাণ্ডে চাপে রয়েছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস৷ এই পরিস্থিতিতে বাগদায় বিএসএফ জওয়ানদের হাতে গৃহবধূর ধর্ষণের ঘটনাকে পাল্টা হাতিয়ার করছে রাজ্যের শাসক দল৷ ইতিমধ্যেই বাগদা ধর্ষণ কাণ্ডে দুই বিএসএফ জওয়ানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ৷ ঘটনার প্রতিবাদে, রবিবার বাগদায় সভা করে তৃণমূল কংগ্রেস৷ ছিলেন রাজ্যের তৃণমূল সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ, মান্ত্রী পার্থ ভৌমিক, বারাসতের সাংসদ কাকলী ঘোষ দস্তিদার, শশী পাঁজা সহ অন্যান্য নেতা নেত্রীরা।

গণধর্ষণ কাণ্ডে ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত দুই বিএসএফ জওয়ানের বিরুদ্ধে রিপোর্ট তৈরি করে ফেলেছেন বিএসএফের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি। থানাতেও দায়ের হয়েছে অভিযোগ। গ্রেফতার হয়েছেন ৬৮ নম্বর ব্যাটালিয়ানের অভিযুক্ত ২ জওয়ান। এই কাণ্ডে শনিবার কলকাতায় তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক এবং মুখপাত্র কুণাল ঘোষ এই ঘটনায় সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে দায় নিতে হবে বলে দাবি করেন। কারণ বিএসএফ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীনেই। এই রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই গণধর্ষণের ঘটনায় ধৃত দুই বিএসএফ কর্মীকে সাতদিনের পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রবিবার বাগদার ঘটনার প্রতিবাদে পথে নামছে তৃণমূল। তার আগে ঘটনাস্থল ঘুরে এসেছেন তৃণমূলের এক প্রতিনিধি দল। সেই দলের নেতৃত্বে ছিলেন বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস। এরমধ্যেই কলকাতায় কুণাল ঘোষের প্রশ্ন, এই কারণেই কি প্রধানমন্ত্রী বিএসএফের কাজের সীমা ১৫ থেকে ৫০ কিলোমিটার করেছেন? একইসঙ্গে তাঁর দাবি, এই ঘটনায় অবিলম্বে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ক্ষমা চাইতে হবে। বিজেপি সরকারের আমলে দেশে নারীরা অসুরক্ষিত। এদিন ফের এই অভিযোগ করেছেন রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা। তাঁর দাবি, এই ঘটনায় ক্ষমা চাওয়া উচিত কেন্দ্রীয় সরকারের। এই পরিস্থিতিতে রবিবার বাগদার ঘটনাকে সামনে রেখে পথে নেমেছে তৃণমূল কংগ্রেস।

বিজেপি নেতা দেবদাস মণ্ডল বলেন, রাজ্যের নেতা মন্ত্রীরা দুর্নীতি কাণ্ডে একে একে জেলে ঢুকছে। রাজ্যে তৃণমূল এখন কোণঠাসা। ফলে বিএসএফের এই কান্ড নিয়ে তারা বাজার গরম করতে চাইছে। এতো আদালতের বিষয়। অভিযুক্তরা ইতিমধ্যেই পুলিশে জালে। আইন আছে বিচার হবে। এই নিয়ে বাজার গরম করে তৃনমূলের মিডিয়ার সামনে মুখ দেখানোর চেষ্টা মাত্র।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *