নিজস্ব প্রতিনিধি, ব্যারাকপুর, ২৬ এপ্রিল:
নেশামুক্তি কেন্দ্রে ভর্তি হওয়া এক যুবককে পিটিয়ে মেরে ফেলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল বেলঘরিয়া ৪ নম্বর যতীন দাস নগর এলাকা।
সূত্রের খবর গত বৃহস্পতিবার ২১ এপ্রিল কেষ্ট পুরের বাসিন্দা সুমন সর্দারকে তার পরিবারের লোকেরা নেশা ছাড়ানোর জন্য এই নেশা মুক্তি কেন্দ্রে ভর্তি করেছিল। তার পর থেকেই যুবকের পরিবার বারবার ভিডিও কলের মাধ্যমে তার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও কর্তৃপক্ষ কোনওভাবেই সুমনের সাথে তাদের যোগাযোগ করতে দেয়নি। আজ সকালে নেশামুক্তি কেন্দ্র থেকে ওই যুবকের বাড়িতে ফোন করে জানানো হয় যে সুমনের শরীর খুব খারাপ এবং দ্রুত তাদের নেশা মুক্তি কেন্দ্রে আসার কথাও জানানো হয়।
এরপর সুমনের বাড়ির লোকজন আসলে সুমন হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছে বলে তাদের জানানো হয়। কিন্তু তারা নেশা মুক্তি কেন্দ্রে এসে দেখেন যে সুমনের মৃতদেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রেয়েছে। সুমনের পরিবারের লোক সুমনকে মেরে ফেলার অভিযোগ তোলে।
এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই সুমনের পরিবার নেশা মুক্তি কেন্দ্রের আশপাশের বাসিন্দাদের নিয়ে ওই নেশা মুক্তি কেন্দ্রে ব্যাপক ভাঙ্গচুর চালান। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ এই কেন্দ্রে ভর্তি হওয়া রোগীদের ওপর নেশা ছাড়ানোর নাম করে মারধর করা হয়। মৃতের পরিবারের অভিযোগ, তাদের পরিবারের ছেলেকে কোনও চিকিৎসা না দিয়ে উল্টে মারধর করে মেরে ফেলেছে। আর এই অভিযোগ তুলতেই ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

ব্যাপক ভাঙ্গচুর করা হয় যতীন দাস নগরের দুটি নেশা মুক্তি কেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে বেলঘরিয়া থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। পরিস্থিতি সামাল দিতে নামানো হয় র্যাফ।
বেলঘরিয়া থানার পুলিশ দুই নেশা মুক্তি কেন্দ্র থেকে রোগীদের উদ্ধার করে নিয়ে যায় এবং গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করে। পাশাপাশি এই ঘটনায় ১ জন কে আটক করেছে বেলঘরিয়া থানার পুলিশ।

