স্বরূপ দত্ত, উত্তর দিনাজপুর ৩ মে: নির্বাচনে জয়ী হয়েই তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস ভাঙ্গচুর, লুটপাটের অভিযোগ উঠল উত্তর দিনাজপুর জেলার চোপড়ায়। অভিযোগ তৃণমূল আশ্রিত দুস্কৃতীরা চোপড়ার সোনাপুর, মাঝিয়ালি, চোপড়া বাজার এলাকায় রবিবার সন্ধ্যা থেকেই লুটপাট ভাঙ্গচুর চালায়। ভাঙ্গচুর চালানোর অভিযোগ ওঠে চোপড়ার বিজেপি কার্যালয়েও। বাদযায়নি তৃণমূল সমর্থকদের দোকানও। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে চোপড়া বিধানসভা এলাকায়।

চোপড়ায় চতুর্থ বার বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী হামিদুল রহমান। পরাজিত করেছেন বিজেপি প্রার্থী শাহিন আখতারকে। ভোটের দিনই সন্ধ্যায় বিজেপি কর্মী সমর্থকদের উপর গুলি চালনার অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। এরপর ভোট গননা শেষ হতেই জয়ের পর চোপড়া বিধানসভা এলাকায় দোকানপাট, বাড়িঘর ভাঙ্গচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। উন্মত্ত তৃণমূল আশ্রিত দুস্কৃতীদের হামলায় বিজেপি কর্মী সমর্থক ছাড়াও বেশ কয়েকজন তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের দোকান ও বাড়িঘর ভাঙ্গচুর হয়।
স্থানীয় ব্যাবসায়ী থেকে দোকানদারদের অভিযোগ, আমরা ব্যাবসা করে খাই, আমরা কোনও রাজনৈতিক দলই করি না অথচ রবিবার সন্ধ্যায় ভোটে জয়ী হওয়ার পর তৃণমূল কংগ্রেস আশ্রিত দুষ্কৃতীরা এলাকায় দোকানপাট বাড়িঘর ভাঙ্গচুর করে দেয়। আমরা ভীষন আতঙ্কিত হয়ে আছি। সোমবার সকালে চোপড়া বিধানসভার সোনাপুর, মাঝিয়ালি, দাসপাড়া, রামগঞ্জ, চোপড়া বাজার এলাকাতে ভাঙ্গচুর লুটপাটের ছবি দেখা যায়।

এক মহিলা তৃণমূল কর্মী অভিযোগ করে বলেন, আমরা তো তৃণমূল করি আমাদের দোকানও ভাঙ্গচুর করে দিয়েছে তৃণমূল আশ্রিত দুস্কৃতীরা। মীনা সাহা নামে ওই মহিলা তৃণমূল কর্মী এও বলেন আমি বিধায়ক হামিদুল রহমানের কাছে জবাব চাইব কেন এই ধরনের ঘটনা ঘটালো। ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন চোপড়ার বাসিন্দারা। চাপা উত্তেজনা দেখা দিয়েছে চোপড়া বিধানসভার বিভিন্ন এলাকায়। যদিও চোপড়া ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি পৃত্থী রঞ্জন ঘোষ জানিয়েছেন, ভাঙ্গচুর লুটপাটের খবর তাঁর কাছে আসেনি। তাঁর পালটা অভিযোগ ভোটের আগে বিজেপিই তৃণমূল কর্মীদের মারধর করেছে ভাঙ্গচুর করেছিল তৃণমূলের অফিসও। আমরা শান্তি আর উন্নয়নের পক্ষে। তবে যদি কোনও বিক্ষিপ্ত কোনও ঘটনা ঘটে থাকে তা উচিত নয় বলে জানিয়েছেন পৃথ্বীরঞ্জন ঘোষ।

