সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা,
৩ এপ্রিল: এক ব্যক্তি মালিকানার ৮ টি গাছ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠল পঞ্চায়েত প্রধান ও তার দলবলের বিরুদ্ধে। সরকারি কাজের স্বার্থে সরকারি জায়গার গাছ কেটেছে গ্রামবাসীরা পাল্টা দাবি প্রধানের। অথচ বন দফতরের নির্দেশ ছাড়াই স্বীকার করেছেন প্রধান। রবিবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা ব্লকের হেলেঞ্চা এলাকায়।
সূত্রের খবর, বাগদা ব্লকের হেলেঞ্চা সমিতির উদ্যোগে হেলেঞ্চা বাজারে জল নিকাশির ড্রেনের কাজ চলছে। নিকাশি নালার তৈরীর ক্ষেত্রে প্রাইমারি স্কুল সংলগ্ন বিজয় রায়ের বাড়ির পেছনের আটটি গাছ বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। গ্রামের দাবাসিন্দারা বিডিও এবং এসডিওর দ্বারস্থ হলেও কোনো সুরাহা হয়নি। জনরোষে গাছ কাটা হয়েছে উন্নয়নের স্বার্থে।

গাছের মালিক বিজয় রায়ের অভিযোগ, রবিবার সকালে গ্রামপঞ্চায়েতের প্রধান চায়না বিশ্বাস এবং বাগদা পশ্চিম ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি অঘোর চন্দ্র হালদার সহ গ্রামের একাংশের উপস্থিতিতে জোরপূর্বক তাঁর ৮ টি মেহগুনি গাছ কেটে দেওয়া বলে অভিযোগ। এই বিষয়ে বিজয়বাবু থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি বলেন, আমি ৩০ বছর ধরে এখানে বসবাস করি। আমার জমির উপরেই এই গাছগুলি ছিল। আদালতের নির্দেশ অমান্য করে আমার আটটি গাছ কেটে নেওয়া হয়।
যদিও এই অভিযোগের কথা অস্বীকার করেছেন গ্রামবাসীরা। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বিজয় রায় স্কুলের জায়গা দখল করে রেখেছে। বাজারের পচা জল গ্রামে ঢুকে পড়ছে। একাধিক বার বলা সত্ত্বেও তিনি গাছ কেটে নেননি। জনরোষে গাছ কাটা হয়েছে উন্নয়নের স্বার্থে।
হেলেঞ্চা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় নালার সমস্যা ছিল। এলাকার মানুষ পঞ্চায়েতের দ্বারস্থ হয়। জনরোষে গাছ কেটে দেওয়া হয়েছে। যদিও গাছ কাটার জন্য বন দফতের কাছে কোনো অনুমতি পঞ্চায়েতের তরফ থেকে নেওয়া হয়নি বলে স্বীকার করেন প্রধান।
বাগদা পশ্চিম ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি অঘোর চন্দ্র হালদার জানিয়েছেন, এলাকায় সমস্যা ছিল তাই আমাকে ডাকা হয়েছে। সেই কারণে আমি এই এলাকায় এসেছি। কারা গাছ কেটেছে সেটা আমার জানা নেই। অভিযোগ ভিত্তিহীন।

