জয় লাহা, দুর্গাপুর, ৭ অক্টোবর: অবৈধভাবে বালি মজুতের অভিযোগে আরও এক বালি মাফিয়া ধরা পড়ল পুলিশের জালে। পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, ধৃতের নাম অজয় হাড়ি। কাঁকসার কৃষ্ণপুর এলাকার বাসিন্দা। মঙ্গলবার রাতে কাঁকসা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। বুধবার ধৃত অজয় হাড়িকে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক তার জামিন খারিজ করে দেন।
উল্লেখ্য, গত কয়েকবছর ধরে কাঁকসাজুড়ে বালি মাফিয়াদের বাড়বাড়ন্ত। কাঁকসার দুই প্রান্তে দুই নদ, অজয় ও দামোদর। অজয়ের নদের বালি গুনগত উন্নতমানের হওয়ায় চাহিদা বেশী। আর সেই সুযোগে অবৈধ বালি পাচারের রমরমা কারবার। কাঁকসার শিবপুর থেকে বসুধা পর্যন্ত একাধিক অবৈধ বালি ঘাট রয়েছে। গ্রীন ট্রাইবুনালের নির্দেশিকাকে উপেক্ষা করে অজয় নদের বুকে চিরে চলত মেশিন বসিয়ে বালি উত্তোলন। কাঁকসার শিবপুর ঘাট, দেউল ঘাট, জঙ্গলঘাট, পেয়ারাবাগান, কোটালপুকুর ঘাট, সাতকাহানিয়া শ্মশান ঘাট, বসুধা ঘাট রয়েছে। বৈধ ঘাটের পাশাপাশি চলত অবৈধ বালিঘাট।
রাজ্যে তৃতীয়বার তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর অবৈধ বালি পাচার বন্ধে তৎপর হয়। গত দু মাস ধরে লাগাতার অভিযান চলছে বিভিন্ন বালিঘাট ও রাস্তার ওপর। ধরাও পড়েছে বেশ কিছু বালি মাফিয়া ও অসাধু বালি কারবারি। আটক হয়েছে বেশ কিছু লরি, ডাম্পার। সম্প্রতি অবৈধ বালি মজুতের ওপর যৌথ অভিযান শুরু করে পশ্চিম বর্ধমান জেলা প্রশাসন। তাতে কাঁকসা থানা এলাকায় অজয় ও দামোদর নদী তিরবর্তী ৪-৫ জায়গায় অবৈধ বালি মজুতের রিপোর্ট হয় জেলা ভূমি রাজস্ব দফতরে। মজুত বালি কার, সে নিয়ে খোঁজ খবর শুরু হয় এবং বালির পরিমান অনুযায়ী জরিমানা দেওয়ার নির্দেশিকা হয়।
ভুমি রাজস্ব দফতর সুত্রে জানা গেছে, গ্রিন ট্রাইবুনালের নির্দিশিকা অনুযায়ী বর্ষায় নদী থেকে বালি তোলা নিষিদ্ধ। কিন্তু বৈধ বালি ব্যাবসায়ীরা এপ্রিল- মে মাস থেকে ব্যাবসা চালানোর জন্য নদী তিরবর্তী জায়গায় বালি মজুত করে। জানা গেছে, এই বালি মজুতের জন্য জেলা ভুমি রাজস্ব দফতরে মজুত রাখা জমির ছাড়পত্র সহ অনুমতি নিতে হয়। সেই মত মজুত বালির পরিমান অনুযায়ী ১৬৫ টাকা প্রতি ১০০ সিএফটি বালির রয়েলটি ধার্য হয়। এবং সেটা জমা দেওয়ার পর ভুমি রাজস্ব দফতর চালান ইস্যু করে। তবে ওই বালি অবশ্যই বৈধ বালিঘাট থেকে তোলা হতে হবে। কাঁকসা ব্লক ভুমি রাজস্ব দফতর সুত্রে জানা গেছে, গত মে-জুন মাসের সার্ভে রিপোর্ট অনুযায়ী ব্লকে বসুধা এলাকায় একটি মাত্র বালি মজুতের অনুমতি আছে।
মঙ্গলবার রাতে অবৈধভাবে বালি মজুতের অভিযোগে অজয় হাড়ি নামে ওই বালি মাফিয়া গ্রেফতার করে পুলিশ। অভিযোগ, ভুমি রাজস্ব দফতর নেটিশ করার পরও কোন রকম হাজিরা দেননি বলে অভিযোগ। তারপরই পুলিশে অভিযোগ দায়ের করে কাঁকসা ভুমি রাজস্ব দফতর। জানা গেছে, প্রায় অজয় নদ তীরবর্তী এলাকায় প্রচুর অবৈধভাবে বালি মজুত করেছিল। কাঁকসার শিবপুরে দুটো, জঙ্গলঘাট ও দেউলঘাটে তার বালি উঠত বলে অভিযোগ। উল্লেখ্য, সপ্তাহখানেক আগে একই অভিযোগে এক বালি কারবারি ধরা পড়েছিল। তারপর এদিন আরও এক বালি মাফিয়া গ্রেফতার হয়। বুধবার ধৃত অজয় হাড়িকে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক ২ দিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দেন। পুলিশ জানিয়েছে, রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

