আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ২১ জুন: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে চালু হলো পেট্রাপোল থানার নতুন আধুনিক ভবন। ২০২৩ সালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই ভবনের উদ্বোধন করেছিলেন। কিন্তু উদ্বোধনের পরও প্রায় দু’বছর ধরে ভবনটি ব্যবহার না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। অবশেষে সরকার পরিবর্তনের পর খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়ার উদ্যোগে ওই ভবনেই পেট্রাপোল থানার কাজকর্ম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো। এই উপলক্ষে পেট্রাপোল বন্দরে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া। ফিতে কেটে নতুন ভবনের উদ্বোধন করেন।
খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া জানান, নতুন ভবনটি পরিদর্শনের পরই সেখানে থানার কার্যক্রম শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তিনি বলেন, এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয়তার কথা বিবেচনা করেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এতদিন পেট্রাপোল থানা ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের নো-ম্যানস ল্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত ছিল। ফলে সাধারণ মানুষকে থানায় যেতে হলে বিএসএফের নিরাপত্তা জনিত তল্লাশির মুখোমুখি হতে হতো। বিশেষ করে রাতের বেলায় অভিযোগ জানাতে গেলে নানা অসুবিধার সম্মুখীন হতে হতো স্থানীয়দের। পরিচয়পত্র না থাকলে অনেক সময় থানার কাছাকাছিও পৌঁছানো সম্ভব হতো না। একই সমস্যায় পড়তে হতো ব্যবসায়ী, পরিবহন কর্মী এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থার কর্মীদেরও।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল, জনবহুল বন্দর এলাকা ও সীমান্ত অঞ্চলের স্বার্থে থানাকে আরও সহজলভ্য স্থানে স্থানান্তর করা হোক। সেই দাবির ভিত্তিতে যশোর রোডের ধারে নতুন থানার ভবন নির্মাণ করা হয়। তবে উদ্বোধনের পরও দীর্ঘদিন তা ব্যবহৃত না হওয়ায় নানা প্রশ্ন উঠেছিল। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ ছিল, কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে নির্মিত ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্বোধন করা ভবন হওয়ায় পূর্ববর্তী রাজ্য সরকার সেখানে থানা স্থানান্তরে আগ্রহ দেখায়নি। অবশেষে নতুন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ফলে ভবনটি চালু হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে পেট্রাপোলবাসীর মধ্যে।
এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ স্থলবন্দর হিসেবে পরিচিত পেট্রাপোলে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ আমদানি- রপ্তানি বাণিজ্য হয় এবং দুই দেশের যাত্রীদেরও যাতায়াত চলে। ফলে আধুনিক ও সহজলভ্য থানার প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিন ধরেই অনুভূত হচ্ছিল। নতুন ভবন চালু হওয়ায় সীমান্ত এলাকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের পরিষেবা প্রাপ্তি আরও সহজ হবে বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা।

