সাত বছর পর নির্বাচনী খরচের হিসাব চেয়ে বীরভূমের প্রার্থীদের শোকজ, বিরোধী প্রার্থী বাতিল করতে শাসক দলের নতুন কৌশলের অভিযোগ

আশিস মণ্ডল, সিউড়ি, ২৫ জানুয়ারি: সাত বছর পর ঘুম ভাঙল প্রশাসনের। পুরসভা নির্বাচনের দোরগোড়ায় সাত বছর আগে পুরসভা নির্বাচনে প্রার্থীদের খরচের হিসাব চেয়ে শোকজ নোটিশ পাঠাল বীরভূম জেলা প্রশাসন। বিরোধীদের অভিযোগ, শাসক দলের নির্দেশে বিরোধীদের মনোনয়ন বাতিল করার এটা একটা নতুন কৌশল। এনিয়ে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিরোধীরা।

রামপুরহাট, বোলপুর, সিউড়ি ও সাঁইথিয়া পুরসভায় নির্বাচন হয়েছে ২০১৫ সালে। ২০১৩ সালে নির্বাচনে হয়েছিল দুবরাজপুর পুরসভায়। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে চলতি বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি ফের নির্বাচন হতে চলেছে ওই সমস্ত পুরসভায়। সেই মতো সমস্ত দল তাদের প্রার্থী তালিকা তৈরি করতে ব্যস্ত। ঠিক সেই সময় সাত বছর আগের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা অধিকাংশ প্রার্থীদের খরচের হিসাব জমা দেওয়ার নোটিশ পাঠালো নির্বাচন কমিশন তথা বীরভূমের জেলা শাসক। ওই শোকজ নোটিশে পাঁচটি পুরসভায় বিগত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীরা খরচের হিসাব কেন জমা দেননি তার কৈফিয়ত চাওয়া হয়েছে। তিনদিনের মধ্যে শোকজের জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সিউড়ি নির্বাচন কমিশনের অফিসে। সেই মতো মঙ্গলবার অধিকাংশ প্রার্থী শোকজের জবাব দিয়েছে।

যদিও বিরোধীদের অভিযোগ, বিরোধী প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিলের এটা একটা নতুন কৌশল। কারণ পঞ্চায়েত নির্বাচনে মনোনয়নে বাধা দিয়ে মুখ পুড়েছে শাসক দলের। তাই আবার আইনি ধারাকে কাজে লাগিয়ে প্রশাসনের মাধ্যমে একই কাজ করছে শাসক দল।

বিজেপির জেলা সহ সভাপতি শুভাশিস চৌধুরী বলেন, “সাত বছর আগে নির্বাচন হয়েছে। আমরা নির্দিষ্ট ৩০ দিনের মধ্যে খরচের হিসাব জমা দিয়েছি। যদি আমরা খরচের হিসাব জমা না দিয়ে থাকি তাহলে সেই নির্বাচনের প্রশাসনিক হিসাব এখন অসম্পূর্ণ রয়েছে ধরে নিতে হবে। কিন্তু এটা কি বাস্তব? শাসক দলের কেউ কেউ নতুন করে ভাউচার জোগাড় করে পুনরায় খরচের হিসাব জমা দিচ্ছে। আমার মনে হয় এই হিসাব সম্পূর্ণ মন গড়া। কারণ সাত বছর আগের খরচের হিসাব আর কারও মনে থাকার কথা নয়। তাছাড়া যার কাছে মাইক ভাড়া নিয়েছিলাম সে হয়তো ব্যবসা গুটিয়ে দিয়েছে। মিষ্টির দোকানি মারা গিয়েছেন। শাসক দলকে সুবিধা পাইয়ে দিতে এটা প্রশাসন এটা করছে। প্রয়োজনে আমরা এর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাব”।

বীরভূম জেলা কংগ্রেসের কার্যকারী সভাপতি চঞ্চল মুখোপাধ্যায় বলেন, “আমরা নির্দিষ্ট সময়ে খরচের হিসাব জমা দিয়েছিলাম। তারপরও আমাকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। যারা জমা দিয়েছে তাদেরও নোটিশ পাঠানো হয়েছে। যারা না জমা দিয়েছেন তাদেরও পাঠিয়েছে। আসলে জেলা শাসকের দফতর নির্বাচনী রেকর্ড রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। অথচ আমার কাছে জমা দেওয়ার সমস্ত প্রমাণ রয়েছে। আমি দেখতে চাই প্রশাসন কতদূর এগোয়। এই অজুহাতে আমাদের যদি কোনো প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করে তাহলে আমরা উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হবো”।

জেলা শাসক বিধান রায় বলেন, “প্রতিটি প্রার্থীর নির্বাচনী হিসাব জমা দেওয়া কর্তব্য। কিন্তু তারা দেননি বলে আইন মেনেই নোটিশ পাঠানো হয়েছে। ৩৩৫ জনকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে”।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *