Siuri, Bolpur, Municipality, দুবরাজপুরের পর এবার পদত্যাগ সিউড়ি ও বোলপুর পুরসভার চেয়ারম্যানের

আমাদের ভারত, বীরভূম, ২০ জুন: দুবরাজপুরের পর এবার পদত্যাগ করলেন সিউড়ি ও বোলপুর পুরসভার চেয়ারম্যান। দু’জনেই অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁরা পদত্যাগপত্র মহকুমা শাসকের কাছে জমা দিয়েছেন।

বীরভূমের সদর শহর সিউড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়। অন্যদিকে বোলপুর পুরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন অনুব্রত ঘনিষ্ঠ পর্ণা ঘোষ। পর্ণা ঘোষ নিজে পদত্যাগপত্র জমা দিলেও উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় সশরীরে পদত্যাগপত্র জমা করতে যাননি। কারণ তাঁর বিরুদ্ধে ২০২২ সালে পুরসভা নির্বাচনে মনোনয়নে বাধা, বুথ দখল, রিগিংয়ের অভিযোগে মামলা রুজু হয়েছে। সেই মামলায় তিনি ছাড়াও অভিযুক্ত হিসাবে কাউন্সিলর, তৃণমূল নেতা সহ রয়েছেন কুড়ি জন। তার মধ্যে অনেকেই ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছে। এর মাঝেই সদর মহকুমা শাসকের কাছে মেইল মারফত তাঁর পদত্যাগ পত্র পাঠিয়েছেন পুরপ্রধান।

সূত্র মারফত জানাগেছে, পদত্যাগ পত্র পাঠানোর পাশাপাশি দূরভাষে সদর মহকুমা শাসকের সঙ্গে কথাও বলেছেন পদত্যাগী পুরপ্রধান উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়। উজ্জ্বলবাবুর বিরুদ্ধে মামলায় জামিন অযোগ্য ধারায় অভিযুক্ত হয়েছেন। এককথায়, সাঁড়াশি আক্রমনের মধ্যে পড়েছেন তিনি। এই পুরপ্রধান সিউড়ি বিধানসভা থেকে তৃণমূলের হয়ে প্রতিদ্বন্দিতা করে হেরেছেন। এঁনার বিরুদ্ধে পুরসভায় সরকারি বরাদ্দের কোটি কোটি টাকা তছরূপের জোরালো অভিযোগ রয়েছে।

সদ্য সিউড়িতে এসে এই পুরপ্রধানকে ইঙ্গিত করে উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় মন্তব্য করেছিলেন, ‘এবার সিউড়ি ঝাঁপি খোলা শুরু হবে।’ পর্ণা ঘোষের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না থাকলেও তার স্বামী তৃণমূলের কোর কমিটির সদস্য সুদীপ্ত ঘোষের বিরুদ্ধে হিংসার অভিযোগ রয়েছে। অনুব্রত মণ্ডলের আস্থাভাজন হওয়ায় বোলপুর পুরসভায় ২০২০ সালে সুশান্ত ভকতকে সরিয়ে সুদীপ্ত ঘোষের স্ত্রী পর্ণা ঘোষকে পুরপ্রশাসক করেন অনুব্রত মণ্ডল। ২০২২ সালে বোলপুরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডে নির্বাচিত হওয়ার পর পর্ণা ঘোষকে স্থায়ী চেয়ারম্যান করা হয়। সোমবার তিনি কাউন্সিলর পদ থেকেও পদত্যাগ করবেন বলে জানা গিয়েছে।

এই প্রসঙ্গে বোলপুরের মহকুমাশাসক অনিমেষ কান্তি মান্না বলেন, “বোলপুর পুরসভার চেয়ারম্যান পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।”

অন্যদিকে, এ বিষয়ে পর্ণা ঘোষের সঙ্গে বারংবার যোগাযোগ করা সত্ত্বেও তাঁর কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *