BJP, Sukanta, Svendu, Dilip, এক দশকেরও বেশি দীর্ঘ লড়াই, সুকান্ত- শুভেন্দু- দিলীপ- শমীকদের হাত ধরেই বঙ্গ দখল বিজেপির

শ্রীরূপা চক্রবর্তী, আমাদের ভারত, ৫ মে : ৪মে ২০২৬ দিনটিকে ইতিমধ্যেই দেশের ঐতিহাসিক দিন বলেই দাবি করেছেন বিজেপির তাবড় তাবড় নেতারা। দীর্ঘ লড়াইয়ের ফসল এদিন ঘরে তুলতে সক্ষম হয়েছে বঙ্গ বিজেপি। দিলীপ ঘোষ, সুকান্ত মজুমদার, শমীক ভট্টাচার্য, শুভেন্দু অধিকারীদের হাত ধরেই বঙ্গে সাফল্য অর্জন করল ভারতীয় জনতা পার্টি। এদের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা, অদম্য সাহস ও পরিশ্রমের ফসল আজকের গৈরিক বঙ্গ।

২০১৪- র আগে পশ্চিমবঙ্গে যে দলের তেমন একটা প্রাসঙ্গিকতাই ছিল না, ১২ বছরের মধ্যে সেই দল বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বঙ্গের ক্ষমতা দখল করল। না, কোনো ম্যাজিক নয়। বঙ্গ বিজেপির বেশ কয়েকজন সারথির লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অদম্য ইচ্ছাশক্তি আজ দলকে এই জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে। বিজেপিকে মানুষের মধ্যে প্রাসঙ্গিক করে তোলার শুরুটা দিলীপ ঘোষ করেছিলেন। তার হাত ধরেই বাংলার বিজেপি লোকসভায় পৌঁছেছিল। কিন্তু তারপর ২১- এর ভোটের পর এক্কেবারে নুইয়ে পড়া, মুসড়ে পড়া বিজেপির সংগঠনকে ছুটন্ত ঘোড়ায় পরিণত করার ক্রেডিট অবশ্যই সুকান্ত মজুমদারের প্রাপ্য। আর সেই ছুটন্ত ঘোড়ার গতিবেগ বাড়িয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী ও শমীক ভট্টাচার্য।

দিলীপ ঘোষের কাঁধে যখন বাংলার বিজেপির দায়িত্ব, তখনই নতুন সূর্যের ভোর দেখেছিল বঙ্গ পদ্ম নেতৃত্ব। কারণ ২০১৯- এই ১৮ জন বিজেপি সাংসদ লোকসভায় পৌঁছেছিল বাঙালির প্রতিনিধি হয়। কিন্তু স্বপ্নের সকালে মেঘ ঘনিয়ে আসে ২১- এর বিধানসভা ভোটের পর। ১৫০- এর বেশি আসন পাওয়ার স্বপ্ন ভঙ্গ হয় ৭৭ আসন পেয়ে। জেলায় জেলায় বিজেপি নেতা কর্মীদের উপর নেমে আসে অকথ্য নির্যাতন। প্রাণ যায় ২৫০- এর বেশি কর্মীর। প্রাণ বাঁচাতে ঘর থেকে পালাতে হয় পদ্মর কর্মীদের। কেউ কেউ পালিয়ে যায় অসমেও। ভেঙে, দুমড়ে- মুচড়ে যায় বঙ্গ বিজেপি। সেই সময় দিল্লি বিজেপি বঙ্গ বিজেপির দায়িত্বে নিয়ে এসেছেন নবাগতকে। তবে প্রথম বার ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেই জয়ী হন সুকান্ত মজুমদার। আর এস এস- এর কার্যকর্তা হলেও সক্রিয় রাজনীতিতে হঠাৎ প্রত্যাবর্তন ঘটেছিল সুকান্ত মজুমদারের। শাসক তৃণমূল নেতারা তাকে শিশু নেতা বলেও তাচ্ছিল করেছেন। কিন্তু মনোবল ভাঙেনি ছাত্র পড়ানো অধ্যাপক সুকান্ত মজুমদারের। ছুটে বেরিয়েছেন উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গের আনাচে কানাচে। যখনই খবর পেয়েছেন কর্মীদের উপর আঘাত নেমে এসেছে, ছুটে গিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন। আর এই সবের সঙ্গে সঙ্গেই জেলায় জেলায় বুথ স্তরে সংগঠন তৈরির রোড ম্যাপ তৈরি করা শুরু করেছেন। কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করে সংগঠনের কাজে নামিয়েছেন। যদিও এর ফল ২৪- এর নির্বাচনে তেমন একটা চোখে পড়েনি। কিন্তু ফল পর্যালোচনায় বোঝা গিয়েছিল পরের বিধানসভা ভোটে বিজেপি ঘুরে দাঁড়াবেই।

তার এই পরিশ্রমকে স্বীকৃতি দিতে ভোলেনি মোদী সরকার। তাই তো দ্বিতীয় বার সাংসদ নির্বাচিত হতেই মোদী মন্ত্রী সভায় শিক্ষা ও উত্তর পূর্ব উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ দুটি মন্ত্রকের প্রতি মন্ত্রীত্বের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাঁকে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হবার পর বিজেপির সাধারণ নিয়ম মেনেই তাকে বঙ্গ বিজেপির সভাপতির দায়িত্ব থেকে অবসর নিতে হয়। তবে তার সময় ফুরিয়ে যাওয়ার পরেও তিনি কাজ চালিয়ে গেছেন। এমনকি এবারের নির্বাচনেও তার নিরলস পরিশ্রম চোখ এড়িয়ে যায়নি কারোর। এক এক দিনে ৩- ৫টি বৈঠক করেছেন। লক্ষ্য স্থির রেখে কাজ করে গেছেন। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ তাঁকে সঙ্গত করে গেছেন সমান তালে। তাই তো সভাপতিত্বের ব্যাটন শমিক ভট্টাচার্যের হাতে যাওয়ার পরেও এক মুহূর্তের জন্যেও সংগঠনকে শক্তিশালী করার সাধনা থেকে সরে দাঁড়াননি। বরং অতি কম সময়ে অনেক বড় ঝড় বুক দিয়ে আগলানোর অভিজ্ঞতাকে উজার করে দিয়েছেন। দিন রাত এক করে জয় ছিনিয়ে নিয়ে এসেছেন। বাঙালির মনে জায়গা দখল করেছেন।

সুকান্ত মজুমদার সভাপতিত্বের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির পরেই বঙ্গ বিজেপির দায়িত্ব নেন আপাদমস্তক নিপাট ভদ্রলোক, স্পষ্টভাষী, তাত্ত্বিক তথা নিষ্ঠাবান নেতা শমীক ভট্টাচার্য। বিজেপির দীর্ঘ লড়াইয়ের সাক্ষী তথা দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করে যাওয়ার জেদ যাদের ছিলো বাংলায় তাঁদের অন্যতম তিনি। দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই মানুষের জন্য কাজ করবে বিজেপি, এই ভাবনাকে আরো বেশি জোরদার করে প্রচারের জায়গায় পৌঁছে দিয়েছেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বে টগবগিয়ে ছুটেছে বঙ্গ বিজেপি। আর তার ফল হাতেনাতে মিলেছে।

তবে বাংলায় বিজেপির এই বিপুল জয়রথকে এগিয়ে নিয়ে যেতে বিজেপি ঘরানার নেতাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে, হিসেব কষে প্রতিদিন নিত্য- নতুন কৌশলে জন সংযোগ স্থাপন করার মাধ্যমে মানুষের ভরসা জয় করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। এক সময় দিদির ভায়েস ক্যাপ্টেন ছিলেন। কিন্তু ঘাসফুল শিবির ত্যাগের পর থেকেই অর্জুনের মতো লক্ষ্য স্থির করে ফেলেছিলেন শুভেন্দু। হিন্দুত্বের কথা রাজ্যের মানুষের কাছে সরাসরি সদর্পে বলেছেন তিনি। পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য সমৃদ্ধ হয়ে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা করে এগিয়েছেন তিনি। আজ তার সব পরিকল্পনা সফল। একাধারে ঘাসফুলের শেকড় উপড়ে ফেলতে তিনি যেমন পেরেছেন, তেমনি তৃণমূল নেত্রীকে পরাজিত করে নিজের ক্ষমতাও বুঝিয়েছেন।

তবে একথা অনস্বীকার্য যে এই সব নেতৃত্বেরই অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল আজকের গেরুয়া বাংলা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *