আমাদের ভারত, মালদা, ৪ জানুয়ারি: করোনায় আক্রান্ত হলেন মালদার অতিরিক্ত জেলাশাসক মৃদুল হালদার। আপাতত তিনি হোম আইসোলেশন রয়েছেন। অতিরিক্ত জেলাশাসক মৃদুলবাবু গত দুদিন ধরে জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন। সোমবার তার করোনার পরীক্ষার জন্য লালারসের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। মঙ্গলবার করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসে। জেলা প্রশাসনিক ভবনের জেলাশাসক এবং অতিরিক্ত জেলা শাসকের পরপর করোনায় আক্রান্তের ঘটনায় সরকারি কর্মচারিদের মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
এদিকে মঙ্গলবার থেকে মালদা শহরজুড়ে করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে জেলা পুলিশ ও প্রশাসন। এদিন সকাল থেকেই মালদা শহরের বিভিন্ন এলাকার দোকান, শপিংমল ও বাজারগুলিতে অভিযান চালায় ইংরেজবাজার থানার পুলিশ। পাশাপাশি শহরের প্রাণকেন্দ্র রথবাড়ি, ফোয়ার মোড়, নেতাজি সুভাষ রোড এলাকায় মাস্ক বিহীন মানুষদের সচেতন করতে রাস্তায় নামে পুলিশ। করোনা সংক্রমণের মধ্যে সরকারি বিধি লঙ্ঘন করার অভিযোগে এদিন পুলিশ ২০ জনকে আটক করেছে। পাশাপাশি শহরের দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন মার্কেট, নেতাজি পুরো মার্কেট সহ একাধিক বাজারগুলোতেও করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে মাস্ক পরার বার্তা নিয়ে অভিযান চালিয়েছে ইংরেজবাজার থানার পুলিশ।

এদিকে মালদা মেডিকেল কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার জেলাশাসক রাজর্ষি মিত্র এবং তার স্ত্রী ও অতিরিক্ত জেলা শাসক বৈভব চৌধুরী করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। তারা হোম আইসোলেশনে রয়েছেন। এরপরে মঙ্গলবার নতুন করে অতিরিক্ত জেলাশাসক মৃদুল হালদার করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকাল থেকেই জেলা প্রশাসনিক ভবনে অফিসার ও কর্মীদের উপস্থিতির হার তুলনামূলকভাবে দেখা যায়নি। যদিও জেলা প্রশাসনের ওই পদস্থ কর্তারা আপাতত সুস্থ রয়েছেন বলে স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফ থেকে জানানো হয়েছে।
রাজ্য সরকারের নির্দেশ মেনে সোমবার থেকে শুরু হয়েছে মালদা জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় ব্যাপক নজরদারি। করোনার সংক্রমণ এড়াতে বিভিন্ন এলাকায় পথ চলতি মানুষদের সচেতন করার ব্যাপারেও প্রচার চালানো শুরু করেছে পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তারা। রাত দশটার পরে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন শপিং মল এবং দোকানপাট।
ইংরেজবাজার থানার পুলিশের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে মাস্ক বিলি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যারা ইচ্ছাকৃতভাবে করোনা বিধি লঙ্ঘন করছেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

