Surendranath college, TMC, তৃণমূল নেতাদের রিফ্রেশমেন্টের জন্য কলেজে এসি রুম, মাস্টার বাথরুম

আমাদের ভারত, ২ জুন: এবার বিতর্কের ঝড় উঠল কলকাতার অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সুরেন্দ্রনাথ কলেজ নিয়েও। মঙ্গলবার ইউনিয়ন রুমের ভেতর থেকে উদ্ধার হয়েছে উড়িয়ে খাওয়া দুই শুটকেস ভর্তি নগদ টাকার বান্ডিল। অভিযোগের আঙুল উঠেছে কলেজের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা দেবাশীষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে। একই সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে রয়েছে দুটি এসি বেডরুম। যেগুলি নাকি তৃণমূল নেতাদের রিফ্রেশমেন্টর জন্য তৈরি হয়েছিল।

অভিযোগ, ৬-৭ মাস আগে ঘরগুলি তৈরি হয়েছে।তৃণমূল নেতা দেবাশীষ বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার ছেলে শিবাশীষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্যই এগুলি বানানো হয়েছে। সেই ঘরে রয়েছে আলমারি, গোদি, বালিশ ও কম্বল । ঘরগুলো শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। ঘরে আরামের জন্য সব রকম ব্যবস্থা রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

কলেজের পাঁচতলার এই ঘরগুলি বেশিরভাগ সবসময়ই বন্ধ থাকতো। যার চাবি থাকতো ইউনিয়নের তৃণমূল নেতাদের কাছে। অভিযোগ, দেবাশীষ বন্দ্যোপাধ্যায় বিভিন্ন অসামাজিক কাজ করতেন এখানে। এমনকি কলেজের ছেলেদের দিয়ে অবৈধ কাজ করাতেন তিনি।

পাঁচ তলা বিল্ডিং-এ রয়েছে ছাদ, সেখানেই একাধিক অসামাজিক কাজ চলতো বলে অভিযোগ। কলেজের একাংশের অভিযোগ, ছাদ থেকে প্রায়ই মদের বোতল সহ নেশার বিভিন্ন দ্রব্য পাওয়া গেছে। সেই বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

৪ তারিখ নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকে সুরেন্দ্রনাথ কলেজের একটি ইউনিয়ন রুমে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ঘরের চাবিটি কার কাছে ছিল তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়। রহস্যজনক ভাবে চাবিটি গায়েব হয়ে যায়।

মঙ্গলবার পুরসভার সাফাই কর্মীরা এই ঘর পরিষ্কার করতে এলে চাবির খোঁজ মেলেনি। অগত্যা কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং কলেজের কর্মচারীরা মিলে ইউনিয়ন রুমের তালা ভাঙ্গার সিদ্ধান্ত নেন। নোংরা ও আবর্জনায় ভরা ওই ঘরটি খুলতেই কোণে পড়ে থাকতে দেখা যায় দুটি স্যুটকেস। সেগুলি খুলতেই উপস্থিত সকলের চোখ কপালে ওঠে। সুটকেসের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে থরে থরে সাজানো বান্ডিল বান্ডিল টাকা।

প্রাথমিক অনুমান ৫০-৬০ লক্ষ নগদ টাকা রয়েছে সেখানে। দীর্ঘদিন বদ্ধ ঘরে শুটকেসে বন্দি থাকায় ওটাকার একটা বড় অংশ উইপোকা কেটে নষ্ট করে দিয়েছে। কলেজের অন্দরের খবর, চাবি গায়েব করে দিয়ে এই বিপুল টাকা লোপাটের চেষ্টা করা হয়েছিল।

টাকা উদ্ধারের খবর ছড়াতেই দ্রুত সুরেন্দ্রনাথ কলেজে পৌঁছায় মুচিপাড়া থানার পুলিশ। সুটকেস বন্দি উইয়ে খাওয়া টাকার পাশাপাশি ঘরটি থেকে উদ্ধার হয় বেশ কিছু ভাউচার। এই সমস্ত ভাউচার ব্যবহার করে বিভিন্ন অবৈধ উপায়ে বিপুল পরিমাণ টাকা তোলা হয়েছিল বলেই অনুমান করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *