জে মাহাতো, আমাদের ভারত, মেদিনীপুর, ১৬ মে:
দাসপুর থানার নাড়াজোল গ্রামে এক ব্যক্তির খুনের রহস্যের কিনারা করল পশ্চিম মেদিনীপুর পুলিশ। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ গ্রেফতার করেছে এক তরুণকে।
জানা গেছে, অসিত মাইতি নামে ওই ব্যক্তিকে খুন করেছে এক বিধবা গৃহবধূর তরুণ ছেলে তুফান গিরি। পুলিশ জানতে পেরেছে, মায়ের সঙ্গে আপত্তিজনক অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে দেখে ফেলার পরই অসিতকে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয় বছর ঊনিশের ওই তরুণ। গ্রেফতার হওয়ার পর সেকথা নিজেই জানিয়েছে তুফান।
রবিবার সকালে কিসমৎ নাড়াজোল গ্রামের একটি পুকুরের পাড় থেকে উদ্ধার হয় শনিবার রাত থেকে নিখোঁজ থাকা ৬২ বছরের অসিত মাইতির সংজ্ঞাহীন রক্তাক্ত দেহ। তড়িঘড়ি নিয়ে যাওয়া হয় কলকাতার একটি হাসপাতালে। কিন্ত রবিবার বিকেলে মৃত্যু হয় তাঁর। পুকুর পাড় থেকে অসিতের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধারের সময় পুলিশ অনুমান করে কেউ অসিতকে খুনের চেষ্টা করেছিল।
ঘাটালের এসডিপিও অগ্নিশ্বর চৌধুরী বলেন, অসিত মাইতির মাথায় ও মুখে গুরুতর চোট ছিল। যা দেখে মনে হয়েছিল প্রাণে মেরে ফেলার জন্য কেউ তাকে কোনও ভারী ও ভোঁতা বস্তু দিয়ে আঘাত করেছে। শুরু থেকেই পুলিশ খুনের মোটিভ খুঁজছিল কিন্তু রবিবার বিকালে অসিতের মৃত্যুর খবর আসার পর তদন্তে জোর দেয় পুলিশ। গ্রামের মানুষের সঙ্গে কথা বলার সময় উঠে আসে তুফান গিরির নাম। পুলিশ নিহত অসিত মাইতির সঙ্গে তুফানের মায়ের অবৈধ সম্পর্কের কথা জানতে পারে। পুলিশ তুফানের মাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারে তুফান পিংলা থানার মালিগ্রামে এক আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়েছে। পিংলা পুলিশকে বিষয়টি জানিয়ে দাসপুর থানার পুলিশ মালিগ্রাম থেকে তাকে দাসপুরে নিয়ে আসে। সামান্য জিজ্ঞাসাবাদের পর তুফান পুলিশকে জানায়, সেই খুন করেছে অসিতকে। তুফান বলে, মায়ের সঙ্গে অসিতকে অন্তরঙ্গ মুহূর্তে দেখার পরই অসিতকে দুনিয়া থেকে সরানোর সিদ্ধান্ত নেয় সে। শনিবার রাতে অসিত যখন পুকুরপাড়ের রাস্তা দিয়ে রাতের অন্ধকারে গোপনে তাদের বাড়ি আসছিল তখনই তাকে আক্রমণ করা হয়।
জানা গেছে, তুফানের বাবা প্রেম গিরি কয়েকবছর আগে মারা যাওয়ার পর মা ও ছেলে মিলে সংসার সামলাতো। সোমবার ঘাটাল মহকুমা আদালতে তোলা হয় তুফানকে।

