আমাদের ভারত, ১২ জুলাই: শিক্ষা ব্যবস্থায় এক চরম উদ্বেগের ছবি উঠে এসেছে। জানা গেছে, গত এক বছরে রাজ্যে প্রায় এক হাজার সরকারি স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। ২০২৪- ২৫ শিক্ষাবর্ষে যেখানে রাজ্য সরকারি স্কুলের সংখ্যা ছিল ৯৩ হাজার ৭১৫টি। ২০২৫- ২৬ শিক্ষাবর্ষে পড়ুয়া যুক্ত সরকারি স্কুলের সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৯২ হাজার ৮০০ তে, অর্থাৎ এক বছরে ৯১৫টি সরকারি স্কুল বন্ধ হয়েছে।
শুধু স্কুল কমে যাওয়াই নয়, শিক্ষা পরিকাঠামোর কঙ্কালসার রূপ স্পষ্ট হয়েছে শিক্ষক সঙ্কটে। বর্তমানে রাজ্যের প্রায় ১৯ হাজার সরকারি স্কুল চলছে মাত্র একজন শিক্ষক দিয়ে। এর সঙ্গে গত এক বছরে প্রায় ২০০০ শিক্ষক অবসর গ্রহণ করেছেন, কিন্তু নতুন করে কোনো শিক্ষক নিয়োগ করা হয়নি। ফলে শিক্ষক সংখ্যা বাড়ার বদলে কমে গিয়েছে।
পর্যাপ্ত শিক্ষক, সুষ্ঠু পরিকাঠামোর অভাবে সরকারি বিদ্যলয়গুলির পঠন- পাঠনের মান তলানিতে ঠেকেছে। ফলস্বরূপ সাধারণ ও নিম্নবিত্ত পরিবারের পড়ুয়াদের মধ্যেও এখন সরকারি স্কুল ছেড়ে বেসরকারি স্কুলের প্রতি ঝোঁক মারাত্মক বৃদ্ধি পেয়েছে। যাকে সামগ্রিক বিপর্যয় বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা।
শিক্ষাবিদদের একটি বড় অংশের মতে, ২০১৫ থেকে পড়ুয়াদের অভাবে বিভিন্ন সরকার পোষিত স্কুলে পাকাপাকি ভাবে তালা পড়েছে, তারমধ্যে কলকাতাও রয়েছে।
গ্রামের দিকে স্কুল ভবনগুলির পরিকাঠামো, মিড ডে মিল রান্নার জায়গা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে বারবার। কিন্তু তারপরেও শিক্ষাবিদদের কাছে যেটা সবথেকে বেশি চিন্তার তা হলো শিক্ষক সঙ্কট। অনেকেই দাবি করেছেন, তৃণমূলের আমলে যেভাবে দুর্নীতি হয়েছে, তাতে তো ঠিকমতো শিক্ষক নিয়োগ হয়নি। এই পরিসংখ্যান সত্যিই উদ্বেগের। এর ফলে শিক্ষার দুর্দশা সামনে আসছে। বিগত সরকার বিভিন্ন পরিসংখ্যান মিথ্যে দিয়েছে, কিন্তু ভিতরে ভিতরে কাঠামো একেবারে ভেঙে পড়েছে। একই সঙ্গে অনেকে এও বলেছেন, স্কুলে এত শিক্ষক সঙ্কটের মধ্যে সেন্সাসের জন্য শিক্ষকদের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে, ফলে স্কুলে তার কোনো সদুত্তর মেলেনি। তাই সরকারি স্কুল বাঁচানোর জন্য দ্রুত শিক্ষক- শিক্ষা কর্মী নিয়োগের প্রয়োজন।

