জে মাহাতো, আমাদের ভারত, মেদিনীপুর, ২৩ এপ্রিল:
মেদিনীপুর শহরে হাতির হানা ঠেকাতে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে বেড়া বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মেদিনীপুর বন বিভাগ। পরিকল্পনার বিষয়টি রাজ্য দপ্তরে অনুমোদনের জন্য পাঠানোও হয়েছে। কিছুদিন আগে একটি দলছুট হাতি বালিচক থেকে রাজ্য সড়ক পেরিয়ে হঠাৎ মেদিনীপুর শহরে ঢুকে পড়ায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছিল। সন্ধ্যের সময় ব্যস্ত শহরে দলছুট দাঁতাল ঢুকে পড়ায় প্রাণ বাঁচাতে বাজারে থাকা মানুষ এলোপাতাড়ি ছোটাছুটি শুরু করেন। বনদপ্তরের কর্মীরা শেষ পর্যন্ত হাতিটিকে ঘুমপাড়ানি গুলি মেরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন এবং শহর থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে চাঁদড়ার জঙ্গলে ছেড়ে দিয়ে আসেন।

মেদিনীপুর শহরের পাশাপাশি কলাইকুন্ডা, চাঁদড়া, মনিদহ ও কনকাবতীর জঙ্গল থেকে বেড়িয়ে মাঝেমধ্যেই মেদিনীপুর শহর সংলগ্ন এলাকায় হাতির দল হানা দেয়। এই পরিস্থিতিতে শহরের ওই সমস্ত এলাকায় তারের বেড়া বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মেদিনীপুর বনবিভাগের আধিকারিক সন্দীপ বেরোয়াল জানিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রথম পর্যায়ে মেদিনীপুর শহরের উত্তর-পশ্চিম দিকের জঙ্গল লাগোয়া শহরতলিতে ফেন্সিং তারের বেড়া বসানো হবে। বেড়ার তারে বিদ্যুৎ সংযোগ থাকায় স্পৃষ্ট হয়ে হাতির দল পিছু হঠে জঙ্গলে ফিরে যাবে। মৃদু বিদ্যুৎ থাকায় শক খেলেও হাতির দল মারা যাবে না। বাঁকুড়া, পুরুলিয়া সহ কয়েকটি জেলায় এই বেড়া বসিয়ে হাতির দৌরাত্ম্য অনেকটাই ঠেকানো সম্ভব হয়েছে। আগে হাতির দল দলমা থেকে এসে দু-তিন মাস ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুরের জঙ্গলে কাটিয়ে ওড়িশা রাজ্যের জঙ্গলে চলে যেত। কিন্তু এখন দলমায় হাতিদের অনুকূল পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তারা ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুরের জঙ্গলে বছরের বেশিরভাগ সময় ঘুরে বেড়াচ্ছে। ওড়িশা সরকার বাংলা সীমান্ত বরাবর খাল খনন করায় হাতির দল আর ওড়িশার জঙ্গলে প্রবেশ করতে পারছে না। ফলে বছরের বেশিরভাগ সময় ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর ও বাঁকুড়ার জঙ্গলে হাতির দল থেকে যাচ্ছে। ফলে ওইসব হাতিদের তাণ্ডবে বছরভর জেলার মানুষ অতিষ্ঠ হচ্ছেন। বিশেষ করে মফঃস্বল এলাকার বাসিন্দারা হাতির তাণ্ডবে অভ্যস্ত হলেও শহরের মানুষের সেই অভিজ্ঞতা নেই। ফলে শহরে হাতি ঢুকলেই হুলুস্থুল কাণ্ড বেধে যায়। তাই জেলা শহরের বাইরে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় ফেন্সিং তার বসিয়ে হাতির দলকে আটকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বনদপ্তরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন।

