কলকাতা: দমদম পার্ক ভারতচক্র পুজো কমিটির এবারের থিম ‘ধান দেব না, মান দেব না’। সেখানে প্যান্ডেলের একটি অংশ সাজানো হয়েছে জুতো দিয়ে। আর তা নিয়েই শুরু হয়েছে বিতর্ক। আইনজীবী পৃথ্বীজয় দাস এই পুজো মণ্ডপের থিমের বিরোধিতা করে ইতিমধ্যেই পুজো উদ্যোক্তাদের আইনি নোটিস পাঠিয়েছেন। এবার লেকটাউন থানাতেও জমা পড়ল মাস পিটিশন।
বিজেপির তরফে এই থিমকে ‘হিন্দু-বিরোধী কাজকর্ম’ বলে দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে তৃণমূলের বক্তব্য, কাউকে অপমান করা ভারতচক্রের লক্ষ্য নয়। বরং বর্তমানে দেশের যে অবস্থা তা-ই তুলে ধরেছে এই থিমের মাধ্যমে।

যদিও পুজো উদ্যোক্তারা এর মধ্যে বিতর্কের কিছু দেখছেন না। ক্লাবের সম্পাদক প্রতীক চৌধুরীর বক্তব্য, “একটি রাজনৈতিক দলের তরফে যে ভাবে জিনিসটাকে দেখানো হচ্ছে তা মোটেই ঠিক নয়। কৃষক আন্দোলন, সন্ন্যাসী আন্দোলন, তেভাগা, কৃষক আন্দোলন তুলে ধরা হয়েছে এই থিমের মাধ্যমে।” প্রতীকের দাবি, কৃষক আন্দোলনকে তুলে ধরতেই প্রতীকি হিসাবে এই জুতোর ব্যবহার করা হয়েছে মণ্ডপে। অনর্থক জটিলতা বাড়াতে এ নিয়ে বিতর্ক তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
মহাষষ্ঠীর দুপুরে লেকটাউন থানায় জমা পড়ল দাবিপত্র। যেখানে বলা হয়েছে যত দ্রুত সম্ভব পুজো মণ্ডপ থেকে জুতো সরিয়ে ফেলতে হবে। সোমবার বেলা ৩টে নাগাদ স্থানীয়দের একাংশ এই লিখিত দাবিপত্র নিয়ে লেকটাউন থানায় হাজির হন। তাঁদের অভিযোগ, এতে হিন্দু ধর্মের ভাবাবেগে আঘাত করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, এটা সম্পূর্ণ সংবিধান বিরুদ্ধ। এর জন্য তারা লেকটাউন থানার পুলিশকে পদক্ষেপ করার আবেদন জানিয়েছেন। তাদের মধ্যে জয়ন্ত কোলে বলেন, “এগুলো অপসংস্কৃতি। এগুলোকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বন্ধ করতে হবে। এই যে সর্বজনীন পুজো, এটা তো সবার আনন্দের জন্য। এর মধ্যে এই অপসংস্কৃতি ঢুকে গোটা পুজোটাকে নষ্ট করে দিচ্ছে। আমরা একদম সাধারণ মানুষ। এরকম দৃশ্য দেখে আমাদের খুব খারাপ লাগছে। মায়ের আগমন হয়েছে। অথচ জুতো রেখে এরা পুজো প্যান্ডেল সাজিয়েছে। এটা একদম বাজে কাজ করেছে। এটার আমরা তীব্র নিন্দা করি। আগামী দিনে এ ধরনের পুজো যাতে বন্ধ হয় তাই আমরা এই পদক্ষেপ করলাম।”


