কুমারেশ রায়, মেদিনীপুর, ১০ সেপ্টেম্বর:
হাইকোর্টের নির্দেশে জমি জবরদখল করে থাকা ঘাটাল শহরের একটি বহুতল বাড়ি ভাঙ্গা চলছে। ঘাটাল–পাঁশকুড়া রাজ্য সড়ক হাইওয়ে ডিভিশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার গোকুল দাস মালাকার বাড়ির মালিককে আদালতের নির্দেশ জানিয়ে দিয়েছিলেন। বাড়ির মালিক নিয়েই ভেঙ্গে দিচ্ছেন।
ঘাটাল মহকুমার পূর্ত দপ্তর হাইওয়ে ডিভিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘাটাল শহরের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে কোননগর মৌজা ২৩৭ নম্বর দাগে ঘাটাল_পাঁশকুড়া রাজ্য সড়কের জায়গা জবরদখল করে ওই বহুতল বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন ঘাটালের দাস ট্রেডার্সের মালিক সুশান্ত দাস। জানা গিয়েছে, রাজ্য সড়ক নির্মাণের সময় ১৯৫৬ সালে ওই জমি অধিগ্রহণ করে পূর্ত দপ্তর কিন্তু ওই জমির মালিক গোপনে বিক্রি করে দিয়েছিলেন।
১৯৯২ সালে ওই দাগের উপর নির্মিত বাড়িসহ জমি কিনে নেন বর্তমান মালিক সুশান্ত দাস। সুশান্ত বাবুর নামে ওই জমি রেকর্ড হয়ে যায়। দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ওই বাড়িতেই বসবাস করছেন তিনি। বর্তমানে রাজ্য সড়ক সম্প্রসারণের জন্য পূর্ত দপ্তরের জারি করা নোটিশের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন সুশান্তবাবু, কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। ওই বাড়ি ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ দেয় উচ্চ আদালত।

পূর্ত আধিকারীক বলেন, ২ মাস সময় দেওয়া হয়েছিল ভেঙ্গে নেওয়ার জন্য কিন্তু ভাঙ্গা হয়নি। সুশান্তবাবুর ছেলে সুদীপ দাস বলেন, ওই জমির সমস্ত কাগজপত্র রেকর্ড সবই আমাদের আছে বৈধভাবে আছে। একটি চক্র আমার বিরুদ্ধে কাজ করেছে। আমি আদালতের নির্দেশ মেনে নিয়েছি। ২ সপ্তাহ সময় চেয়েছিলাম কিন্তু গত কাল সন্ধে বেলায় পূর্ত দপ্তর থেকে রাতেই ভেঙ্গে ফেলার জন্য লিখিতভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়, তাই আমি নিজেই রাত থেকে ভেঙ্গে ফেলার কাজ শুরু করেছি।
উল্লেখ্য পূর্ত দপ্তরের জায়গা দখল করে অনেকেই দোকান ঘর থেকে শুরু করে বহুতল বাড়ি বানিয়েছেন। রাজ্য সড়ক সম্প্রসারণের জন্য সমস্ত জবরদখলকারীকে সরে যেতে মাইকিং করে নির্দেশ দিয়েছে পূর্ত দপ্তর। বেআইনি ভাবে নির্মাণ সরিয়ে না নিলে ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে বলে দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে। ঘাটালের মানুষজনের প্রশ্ন, কতগুলি বেআইনি নির্মাণ ভাঙ্গে পূর্ত দপ্তর, সেটাই এখন দেখার।

