লকডাউন কাজ নেই! জাতীয় সড়কে শিশুদের নিয়ে পাথর কুড়িয়েই দিন কাটছে হিলির এক অসহায় পরিবারের

পিন্টু কুন্ডু , বালুরঘাট, ২৯ এপ্রিল: লকডাউনে বন্ধ রোজগার। তাই জাতীয় সড়কের উপর পড়ে থাকা পথর কুড়িয়েই দিন কাটছে এক অসহায় পরিবারের। পেটের তাগিদে পাথর কুড়োতে রাস্তায় নেমেছে ছোট্ট শিশুরাও। রেশন কার্ড না থাকায় মিলছে না কোনও সরকারী সহায়তা, বলে অভিযোগ হতদরিদ্র ওই পরিবারের। ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তের হিলি ব্লকের ৫১২ নম্বর জাতীয় সড়কই এখন যেন তাদের রোজগারের একমাত্র পথ। যেখানে সকাল থেকে সন্ধ্যে পর্যন্ত পাথর কুড়িয়েই দিন কাটে তাদের।

হিলির পাঞ্জুল গ্রাম পঞ্চায়েতের ডুমরন এলাকার বাসিন্দা শিউলি মালো। একমাত্র ছেলে চঞ্চল মালো ও দুই ছোট্ট শিশুকে নিয়ে তাদের সংসার। প্রায় একবছর আগে পথ দুর্ঘটনার জেরে শারিরীক ভাবে অসুস্থ থাকায় একপ্রকার কর্মক্ষমতা হারিয়েছে চঞ্চল। পরিবারের একমাত্র রোজগেরে বলতে ষাটোর্ধ শিউলি মালী। বয়সের ভারে সেরকম কাজ করতে না পারলেও লকডাউন তাদের রোজগার প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। আর তাই সকাল থেকে পরিবার নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন জাতীয় সড়কেই। কখন পাথর বোঝাই গাড়ি থেকে অল্পকিছু পাথর পড়বে সেই আশাতেই ছোট্ট শিশুদের নিয়ে চাতক পাখির মতো অপেক্ষা করে থাকেন শিউলি ও চঞ্চল। দিনের শেষে যা বিক্রি করেই সংসার চলছে অসহায় ওই মালো পরিবারের।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে পাথর রপ্তানীর জন্য দক্ষিন দিনাজপুর জেলার পতিরাম থেকে হিলি পর্যন্ত রাস্তা জুড়েই সারি সারি মালবোঝাই লরি। যে লরিগুলি চলবার সময় পড়তে থাকে কিছু পাথর। যা কুড়িয়ে বিক্রি করে সংসার চালানোর জন্য অর্থের জোগান করে অসহায় ওই পরিবার। লকডাউনের আগে অন্যান্য কাজে ব্যস্ত থাকলেও এখন সব কাজ বন্ধ হয়েছে। তাই সকাল হতেই ঝাড়ু, বস্তা, ঝুড়ি নিয়ে পাথর পড়বার অপেক্ষায় জাতীয় সড়কে বসে থাকেন ডুমরন এলাকার ওই অসহায় পরিবার।

অসহায় ওই পরিবারের লোকেদের অভিযোগ, ভোটার বা আধার কার্ড থাকলেও শুধুমাত্র রেশন কার্ড না থাকায় তারা কোনও সরকারি সুযোগ সুবিধা পান না। বাধ্য হয়ে সংসার চালাতে লকডাউনের বাজারে এমন পথ বেছে নিতে হয়েছে তাদের।

চঞ্চল মালো এবং শিউলি মালো জানিয়েছেন, আগে উপার্জনের কিছু পথ খোলা থাকলেও বর্তমানে সব বন্ধ। সকালে বেরিয়ে দিনের শেষে তিন চার বস্তা পাথর কুড়িয়ে তা ১৫০-২০০ টাকায় বিক্রি করলে তবেই ভাত জোটে সকলের।

হিলির বিডিও সৌমেন বিশ্বাস জানিয়েছেন, বিষয়টি খোজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *