Football Competition, Midnapur, মেদিনীপুরে তাঁতিগেড়িয়া সমাজ সেবক ক্লাবের ৩০তম “ডে টু নাইট” মিনি নকআউট ফুটবল প্রতিযোগিতা

পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৮ সেপ্টেম্বর: ‘গীতা পাঠ অপেক্ষা ফুটবল খেলা ভালো’। স্বামী বিবেকানন্দের এই অনুপ্রেরণামূলক বাণীকে পাথেয় করে বর্তমান প্রজন্মকে মোবাইল ও ইন্টারনেটের আসক্তি থেকে বের করে মাঠমুখী করার লক্ষ্যে ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন করলো মেদিনীপুর শহরের তাঁতিগেড়িয়া সমাজ সেবক ক্লাব। বাঙালির অন্যতম প্রিয় খেলা ফুটবলকে আরও জনপ্রিয় করে তোলা এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে খেলাধূলার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে স্থানীয় মাঠে অনুষ্ঠিত হলো দুই দিনের ডে-টু-নাইট মিনি নকআউট ফুটবল প্রতিযোগিতা।

এ বছর এই প্রতিযোগিতা ৩০ বছরে পদার্পণ করল। দীর্ঘ তিন দশক ধরে নিয়মিতভাবে এই ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন করে আসছে তাঁতিগেড়িয়া সমাজ সেবক ক্লাব। এবারের প্রতিযোগিতায় মোট ৩২টি দল অংশগ্রহণ করে। দিনের আলো থেকে রাত পর্যন্ত টানটান উত্তেজনাপূর্ণ একের পর এক ম্যাচ দেখতে স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে দূর- দূরান্তের ফুটবলপ্রেমীদের ভিড়ে জমজমাট হয়ে ওঠে গোটা মাঠ চত্বর।

প্রতিযোগিতার বিশেষ আকর্ষণ ছিল দর্শকদের উপস্থিতি। মাঠের চারপাশে দর্শকদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। ফুটবলপ্রেমীদের উৎসাহ ও উন্মাদনায় কার্যত উৎসবের চেহারা নেয় প্রতিযোগিতা। দর্শকদের আরও স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে খেলা দেখার সুযোগ করে দিতে এই বছরই প্রথম গ্যালারির ব্যবস্থা করা হয় ক্লাবের পক্ষ থেকে। গ্যালারিতে বসে ফুটবল উপভোগ করেন বহু দর্শক।

প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক শঙ্কর গুছাইত, সমাজসেবী অরূপ দাস, সমাজসেবী পারিজাত সেনগুপ্ত- সহ অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিরা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে খেলাধূলার প্রসার এবং মাঠমুখী পরিবেশ গড়ে তোলার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে, শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি শৃঙ্খলা, দলগত সংহতি এবং সুস্থ প্রতিযোগিতার মানসিকতা গড়ে তুলতে খেলাধূলার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা।

ক্লাব কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়, বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন, সামাজিক মাধ্যম ও বিভিন্ন ধরনের ভার্চুয়াল বিনোদনের কারণে শিশু- কিশোরদের মধ্যে মাঠে গিয়ে খেলাধূলার প্রবণতা অনেকটাই কমেছে। সেই পরিস্থিতিতে নতুন প্রজন্মকে মাঠমুখী করা এবং ফুটবলের প্রতি আগ্রহ তৈরি করাই এই প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। শুধু প্রতিযোগিতা আয়োজন নয়, আগামী প্রজন্মের মধ্যে খেলাধূলার সুস্থ পরিবেশ তৈরি করতেও তাঁরা নিয়মিতভাবে এই ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করে চলেছেন।

দুই দিন ধরে চলা এই প্রতিযোগিতাকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা যায়। খেলোয়াড়দের পাশাপাশি দর্শকদের মধ্যেও ছিল প্রবল উত্তেজনা। মেদিনীপুর শহরের ক্রীড়াপ্রেমী মানুষের কাছে এই প্রতিযোগিতা কার্যত এক মিলন মেলায় পরিণত হয়।

সমগ্র প্রতিযোগিতাটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন ক্লাবের পক্ষে সঞ্জয় সিং, শ্যামল সিং ও রাজা কর্মকার। তাঁদের তত্ত্বাবধানে প্রতিযোগিতার বিভিন্ন পর্ব পরিচালিত হয়। দীর্ঘ ৩০ বছরের এই ফুটবল প্রতিযোগিতার ঐতিহ্যকে ধরে রেখে আগামী দিনেও আরও বড় পরিসরে এই ধরনের ক্রীড়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে বলে ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *