স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ২৬ মে:
রাজনৈতিক হিংসার চরম নজির নদিয়ার নাকাশিপাড়া ব্লকের হরনগর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা। বিজেপি করায় গ্রামছাড়া ৩০টি মুসলিম পরিবার। লোকসভা ভোটের মুখে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে কিছু পরিবার গ্রামে ফিরলেও, কাটেনি সামাজিক বয়কট।
অভিযোগ, এবার স্বয়ং মসজিদ কমিটির নাম করে স্থানীয় তৃণমূল নেতারা তা তাদের নমাজ দেওয়া থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দিয়েছে। এমনকি কবরস্থানে পরিজনদের শেষকৃত্য করতে গেলেও জুটছে হুমকি, যার কারণে বাধ্য হয়ে অন্যত্র গ্রামের বাইরে, আত্মীয় পরিজনের শেষ কৃত্য সম্পন্ন করতে হচ্ছে তাদের। বিজেপিকে সমর্থন করায় ঐ সকল পরিবারের সদস্যদের জুটেছে নানান ভাবে সামাজিক বয়কট।

এরই মধ্যে আজ নদিয়া জেলা পুলিশ সুপারের দ্বারস্থ হয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলি। তাঁদের অভিযোগ, গত লোকসভা ভোটের দিন বিকেলে তৃণমূল শাসিত পঞ্চায়েতের আশ্রিত দুষ্কৃতীরা লোকজন নিয়ে একাধিক বিজেপি সমর্থিত বাড়িতে হামলা চালিয়ে বাড়ির টিনের ছাদ, দরজা, জানলা ভেঙ্গে বাড়িতে থাকা সমস্ত জিনিসপত্র, এমন কী গোয়ালের গবাদি পশুও লুট করে নিয়ে গিয়েছে।
অভিযোগকারী শাহিনুর শেখের বয়ান অনুযায়ী, বিগত ২০১৪ সালের ১৩ মে লোকসভা ভোটের দিন বিকেলে পূর্ব রাখবপুর এলাকায় স্থানীয় তৃণমূল নেতা সামসুল শেখের নেতৃত্বে শাহাবুদ্দিন শেখ, সাহারুল শেখ, শামীম শেখসহ ২০-৩০ জন দুষ্কৃতী তাঁদের বাড়িতে চড়াও হয়। অভিযোগ, খাট, আলমারি, শোকেস, এক ভরি সোনার চেইন, কানের দুল, নগদ এক লক্ষ টাকা এবং বাড়ি তৈরির জন্য মজুত রাখা সাড়ে দশ হাজার ইঁট ও বালি লুট করে নিয়ে যায় তারা। প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে তাদের গ্রামছাড়া করা হয়। সেই রাতেই নাকাশিপাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ জানাতে গেলে পুলিশ তাদের ভয় দেখিয়ে তাড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ।
একই সুর আর এক অভিযোগকারী কলিম শেখের গলায়। ঘুনি গ্রামের বাসিন্দা কলিম শেখ আজ জেলা পুলিশ সুপারের কাছে তৃণমূল নেতা শামসুল শেখ ও তার অনুগামীদের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১৩ মে লোকসভা ভোটের দিন বিকেলে একই কায়দায় তাদের বাড়িতেও হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা। বন্দুকের নল উঁচিয়ে বাড়ি ভাঙ্গচুর করে আলমারি, শোকেস, জল তোলার মোটর এবং গোয়ালের গবাদি পশু লুট করে নেওয়া হয়। ওই রাতে তিনিও থানায় কোনো সাহায্য পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। দীর্ঘদিন পর রাজ্যে নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর তাঁরা গ্রামে ফিরলেও, এই সামাজিক বয়কট ও লাগাতার হুমকিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এই ৩০টি পরিবার। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়।
অভিযোগকারীদের আইনজীবী রমিত শীল জানান, “ভারতবর্ষ গণতান্ত্রিক দেশ, এখানে ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবার নিজের পছন্দের দলকে সমর্থন করার অধিকার আছে। আর কোনো বিশেষ দলকে সমর্থন করার দায়ে যা এই সকল মানুষের সাথে হয়ে এসেছে এবং চলছে সেটা সম্পূর্ণ ভাবে আইন বিরোধী। আমরা সকলে চেষ্টা করবো আসামিদের যাতে কঠোর শাস্তি হয় এবং গ্রামের সকল মানুষ শান্তিতে নিজের বাড়িতে বসবাস করতে পারে। নিজের নমাজ নিজের গ্রামের মসজিদে পড়তে পারেন ও মৃত্যু অন্তে নিজের গ্রামের কবরস্থানে যেন তাদের আত্মীয় পরিজনের দাফন- এর কাজ করতে পারেন। প্রশাসন যদি তৎপর না হয় আমরা উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা ভেবে দেখব।”

