অতিষ্ঠ করে মারছে, মুসলিম প্রতিবেশীরা হুমকি দিচ্ছে, বাধ্য হয়ে গ্রাম ছাড়তে চাইছে ২৫টি হিন্দু পরিবার

আমাদের ভারত, ১৯ ফেব্রুয়ারি: গ্রামে প্রায় ৬০ শতাংশ মুসলিম ৪০ শতাংশ হিন্দু পরিবারের বাস। আর সেখানেই নিত্যনৈমিত্তিক ঝামেলা বেধে আছে। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে গ্রামের অন্তত ২৫টি হিন্দু পরিবার এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে জানা গেছে। ওই হিন্দু পরিবারগুলিকে রোজ হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ গ্রামের বেশকিছু মুসলিম প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে।

পরিস্থিতি এমন জায়গায় গিয়েছে যে হিন্দু বাড়ির লোকজনের বাড়ির দেওয়ালে লিখে রাখতে শুরু করেছেন মে তাদের বাড়িগুলি বিক্রি আছে। তাদের অভিযোগ তারা বারবার নানা ধরনের হুমকি পাচ্ছেন। আর তার ফলেই তারা গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে চাইছেন। এই ঘটনা ভূপালের রতলাম জেলার সুরানা গ্রামের।

স্থানীয় সূত্রে খবর মুকেশ জাঠ নামে হিন্দুত্ববাদী নেতার সঙ্গে ময়ূর খান নামে গ্রামের অপর এক বাসিন্দার বিরোধ। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন। মুকেশ জাঠের দাবি, “অপরপক্ষ আপত্তিকর গান বাজাচ্ছে, মিছিল বের করছে, এখানে মহিলারাও সুরক্ষিত নয় এই পরিবেশে”। সর্বদায় মানসিকভাবে চাপে রাখা হচ্ছে তাদের। তার অভিযোগ পুলিশকে এই বিষয়ে বলতে গেলেও কোনো পদক্ষেপই তারা করছে না। ১০০ জনকে নিয়ে এসে ময়ূর খান তাদের মারধর করে গেছেন,গ্রাম ছেড়ে যাওয়ার জন্য শাসিয়েছে। অন্য আরও এক গ্রামবাসীর ওমপ্রকাশ প্যাটেল বলেন, ময়ূর খান বাইক নিয়ে বারবার ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে। বাড়ির সামনে ইচ্ছাকৃত ময়লা ফেলে দিয়ে যাচ্ছে। বাচ্চাদের ভয় দেখাচ্ছে। জেলা প্রশাসনের কাছে তাঁর দাবি অন্য কোথাও তাদের জন্য জমি দেখে দেওয়া হোক , তারা সেখানেই চলে যাবে।

অন্যদিকে ময়ূর খানের দাবি মুকেশ জাঠরা সবকিছুতেই সাম্প্রদায়িক রং লাগানোর চেষ্টা করছে। তার অভিযোগ ১৬ জানুয়ারি তাকেই মারধোর করা হয়েছিল আর তার বিরুদ্ধেই আবার উল্টে এফআইআর করা হয়েছিল।

ঘটনা সম্পর্কে বলতে গিয়ে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নরোত্তম মিশ্র জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুতর। শান্তি বজায় রাখার সার্বিকভাবে চেষ্টা করছে প্রশাসন। তবে কারো ভয় পাওয়ার কারণ নেই। জেলা প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে গ্রামবাসীর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *