আমাদের ভারত, ২৬ জুলাই: বছর চারেক আগে মালদহে ভয়াবহ বন্যা হয়েছিল। সেই বন্যার ত্রাণ নিয়ে ব্যপক দুর্নীতি যে হয়েছে তা একরকম স্বীকার করে নিল রাজ্য সরকার– একেবারে আদালতে দাঁড়িয়ে। গোটা ঘটনা যেভাবে এগিয়েছে তার জন্য রাজ্য সরকারকে তীব্র ভর্ৎসনা কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দলের বেঞ্চের।
২০১৭ সালের আগস্ট মাসে মালদহে ব্যাপক বন্যা হয়। তাতে কয়েক হাজার মানুষের ঘরবাড়ি ভেঙ্গে যায়। সেই সময় রাজ্য সরকার ঘোষণা করেছিল ওই বন্যায় যাদের ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ভেঙ্গে গিয়েছে তাদের ৭০ হাজার করে টাকা রাজ্য সরকার দেবে। কিন্তু অভিযোগ ওঠে, তাতেই ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। দেখা যায় যে প্রায় ১৪ হাজার আবেদনপত্র জমা পড়ে। আর তারমধ্যে অর্ধেক মানে প্রায় ৭ হাজার আবেদনপত্রে ফোন নম্বরের জায়গায় একই নম্বর লেখা রয়েছে। এছাড়াও অনেক আবেদনপত্রে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নম্বরই পাওয়া গিয়েছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় হাইকোর্টে মামলা দায়ের হয়েছিল।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য মালদহের এক বিডিও ২০১৯ সালে মেনে নিয়েছিলেন বাড়ি ভাঙ্গার ক্ষতিপূরণে অনেক গরমিল হয়েছে। আর আজ আদালতে দাঁড়িয়ে রাজ্য সরকারের তরফেও এডভোকেট জেনারেল কৃষ্ণ দত্ত দুর্নীতির বিষয়টি অস্বীকার করেননি। বরং তিনি বলেছেন দুর্নীতিতে যুক্ত অনেককে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।
কিন্তু আদালত এসব শুনতে চায়নি। হাইকোর্ট রাজ্য সরকারকে হলফনামা জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে। আগামী ৫ আগস্ট এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।
রাজ্য কেন উপযুক্ত ব্যবস্থা নিয়ে আসল ক্ষতিগ্রস্থদের টাকা পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেনি? তা নিয়েও রাজ্য সরকারকে ভর্ৎসনা করে আদালত।


চাল চোর, ত্রাণ চোর সরকার থেকে এইটাই কাম্য