রাজেন রায়, কলকাতা, ৩১ মার্চ: গ্রাম ছাড়িয়ে এবার শহরে এসে পৌঁছেছে নির্বাচনের রাজনৈতিক উত্তাপ। তাই ব্যারাকপুর প্রশাসনিক ভবনে মনোনয়ন পত্র দাখিলকে কেন্দ্র করে রীতিমত উত্তপ্ত হয়ে উঠল এলাকা। দুই দলের প্রার্থীদের মনোনয়ন পত্র দাখিলকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ব্যারাকপুর মহকুমা শাসকের কার্যালয়ের সামনের চত্বর। গুলি চলার পর গুলিবিদ্ধ হলেন একজন। আহত হলেন পুলিশকর্মীরা।

পঞ্চম এবং ষষ্ঠ দফার মনোনয়ন জমা দেওয়ার জন্য ব্যারাকপুরে যাচ্ছেন তৃণমূল ও বিজেপি নেতারা। তৃণমূল ও বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে এদিন সেখানে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। আর তার জেরেই দুই পক্ষেরই বেশ কয়েকজন সমর্থক আহত হয়েছেন। তৃণমূলের তরফে অভিযোগ করা হয়েছে সংঘর্ষের সময় তাঁদের সমর্থক ও কর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে। আর তার জেরেই তাঁদের এক কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। উদ্ধার হয়েছে রাস্তায় পড়ে থাকা একটি বন্দুক।

এদিন বেলার দিকে মিছিল করে ব্যারাকপুর মহকুমা শাসকের কার্যালয়ে মনোনয়ন জমা দিতে আসেন রাজ চক্রবর্তী। কিন্তু তিনি কার্যালয়ে ঢুকে যাওয়ার পরেই শুরু হয়ে যায় তৃণমূল ও বিজেপির সংঘর্ষ। এদিন সকাল থেকেই মহকুমা শাসকের কার্যালয়ের সামনে ভিড় জমিয়েছিলেন বিজেপির সমর্থকেরা। রাজ আসার পরেই তৃণমূল সমর্থকদের ওপর আক্রমণ শুরু করে বিজেপির সমর্থকরা বলে অভিযোগ। তার জেরেই দুই পক্ষের মধ্যে জোরদার সংঘর্ষ বেধে যায়। ঘটনার জেরে পুলিশ দুই পক্ষের ওপর ব্যাপক লাঠিচার্জ করে।

এরপরে বীজপুরের বিজেপি প্রার্থী শুভ্রাংশু রায় তাঁর মনোনয়ন জমা দিয়ে বার হওয়ার সময় তৃণমূল সমর্থকদের আক্রমণের মুখে পড়েন বলে অভিযোগ। তাঁর দেহরক্ষীরা তাঁকে কোনওমতে গাড়িতে তুলে দিতে সক্ষম হলেও শুভ্রাংশের সঙ্গে আসা বেশ কিছু গাড়িতে ব্যাপক ইটবৃষ্টি করেন তৃণমূলের সমর্থকরা। পাল্টা ইটবৃষ্টি শুরু করে বিজেপি কর্মীরাও। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন রয়েছে বিশাল পুলিশবাহিনী।


