কলিযুগের ‘দধীচি’ ছাগল! যুবক-যুবতীরা চাকরির পেছনে না ছুটে ছাগল পালন করে অনেক টাকা রোজগার করতে পারেন

মিলন খামারিয়া
আমাদের ভারত, কলকাতা, ৩ জুলাই:
খনার বচনে আছে -‘কচি পাঁঠা বৃদ্ধ মেষ, দধির অগ্র ঘোলের শেষ।’ -হল সুস্বাদু। ভোজন রসিক বাঙালি তথা বিশ্বের মানুষের কাছে কচি পাঁঠা বা ছাগলের মাংসের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে বাংলার কালো ছাগলের চাহিদা রয়েছে বিশ্বজুড়ে। চাহিদার তুলনায় জোগান কম থাকায় ছাগলের মাংসের দাম প্রতিনিয়তই বাড়ছে। আর সেই দিকে লক্ষ্য রেখেই অনেক মানুষ ছাগল পালনে এগিয়ে আসছেন।মানুষের আগ্রহের প্রতি লক্ষ্য রেখে ‘ ‘ফার্মলোর’ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের পক্ষ থেকে আজ একটি ওয়েবিনারের আয়োজন করা হয়। ওয়েবিনারে বক্তব্য রাখেন ‘Officer-in-Charge, Kotulpur Goat Cum Fodder Farm(Govt. of W.B.)’-এর বিশিষ্ট পশু-চিকিৎসক ডাঃ শরদিন্দু শীল।

ডাঃ শীল জানান যে, প্রাণী-সম্পদ পালন বর্তমানে অর্থনৈতিক ভাবে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ছাগল পালন করে প্রচুর মুনাফা করা যেতে পারে। বেকার যুবক-যুবতীরা সামান্য মাইনের চাকরির পেছনে না ছুটে যদি ফার্ম তৈরি করে ছাগল পালন করেন তাহলে বাৎসরিক অনেক টাকা রোজগার করতে পারেন।

পশ্চিমবঙ্গের জলবায়ুতে বিভিন্ন প্রজাতির ছাগল পালন করা যায় বলে ডাঃ শীল জানান। বাংলার কালো ছাগল, বীটাল, শিরোহী, যমুনাপারি প্রভৃতি জাতের ছাগল আমাদের রাজ্যে পালন করা হয়ে থাকে। বিশেষ করে বাংলার কালো ছাগলের মাংস সুস্বাদু হবার কারণে এর চাহিদা ভীষণ বেশি কিন্তু পালন হয় ভীষণ কম।

হাইব্রিড নেপিয়ার, থিন নেপিয়ার, জোয়ার, ভুট্টা, সিগনাল, প্যারা, গিনি, দীননাথ, কলমি প্রভৃতি উন্নত প্রজাতির ঘাস ছাগলের খাবার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।গম, ভুট্টা,মুগ-মসুর, ছোলা গুঁড়ো, মাঈলো গুড় ইত্যাদি ছাগলের খাবার তালিকায় রাখা উচিত বলে ডাঃ শীল জানান। বট, কাঁঠাল, নীম, অশোক, বাবলা, সজনে পাতা ছাগলের অত্যন্ত প্রিয় খাদ্য, যা অত্যন্ত পুষ্টিকর। সবুজ ঘাসের অপ্রতুলতা প্রাণী-সম্পদ তথা ছাগল পালনে বিশেষ অসুবিধার কারণ হয়ে যাচ্ছে বলেন তিনি জানান।

ছাগল পালন করে অর্থনৈতিকভাবে কতটা স্বাবলম্বী হওয়া যাবে সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ডাঃ শীল জানান, “ছাগলের মাংসের চাহিদা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই সঠিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ছাগল পালন করলে অনেক টাকা আয় করা যেতে পারে। ছাগলের শরীরের সব কিছুই বিক্রি করা যায়। এমনকী তার মল-মূত্রও সার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। তাই ছাগল পালন সব দিক দিয়েই লাভজনক এবং বেকারত্ব দূরীকরণের অন্যতম হাতিয়ার।”

রবিবারে বাঙালির হেঁসেল খাসির মাংসের গন্ধে ভরে উঠুক।আর সেই ছাগল পালন করে বাঙালি তথা ভারতবাসী অর্থনৈতিক ভাবে সমৃদ্ধশালী হোক। দেবরাজ ইন্দ্র বৃত্রাসুরকে বধ করার জন্য দধীচি ঋষির হাড় দিয়ে বজ্র তৈরি করেছিলেন। দধীচি নিজেকে নিঃশেষ করেও দেবতাদের রক্ষা করেছিলেন। আর কলিকালে ছাগলও একই কাজ করে চলেছে। তার শরীরের সব অংশ দিয়ে বেকার যুবকদের ‘বেকারত্ব’ নামক অসুরকে নিঃশেষ করার চেষ্টা করছে। সত্যিকারেই ছাগল হয়ে উঠুক কলিযুগের দধীচি – এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

আরও পড়ুন ভুয়ো ভ্যাকসিন, ভুয়ো তৃণমূল নেতা, ভুয়ো সিবিআইয়ের পর এবার রাজ্যে ভুয়ো ডিএসপি

ওয়েবিনারে সভাপতিত্ব করেন ড. রাসবিহারী ভড়।সঙ্গীত পরিবেশনায় ছিলেন সংঘমিত্রা মিশ্র এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষক মৃন্ময় বিশ্বাস।

1 thoughts on “কলিযুগের ‘দধীচি’ ছাগল! যুবক-যুবতীরা চাকরির পেছনে না ছুটে ছাগল পালন করে অনেক টাকা রোজগার করতে পারেন

  1. Nirmal Kumar Maity says:

    খুব সুন্দর প্রোগ্রাম। দুধের জন্য ছাগল পালন হয় – প্রথম জানলাম। আমাদের এখানেও প্রগতিশীল উদ্যোগী আছেন-জেনে ভাল লাগল। তারা goat chese এর ব্যবসা করার কথা ভাবছেন।

Leave a Reply to Nirmal Kumar Maity Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *