আমাদের ভারত, ২৭ মে:আমফান থেকে শিক্ষা নিয়েছেন তাই যসের ক্ষেত্রে আর কোন ভুল করতে চান না মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই এবার ইয়াসের ক্ষতিপূরণ ও ত্রাণ বন্টনের সম্পূর্ণ নিজের হাতেই রাখছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রসঙ্গত ক্ষতিগ্রস্থদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা দেওয়ার পরামর্শ রাজ্যপালও দিয়েছেন। বিপর্যয় মোকাবিলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসার সঙ্গে ত্রান ও পুনর্বাসনের কাজ স্বচ্ছ ভাবে করার কথাও টুইট করে মনে করিয়েছেন রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান।
নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী এদিন জানান আগামী ৩-১৮ জুন দুয়ারে ত্রাণের জন্যে ক্ষতিগ্রস্তদের আবেদন নেওয়া হবে। এবার আর কারো মাধ্যমে নয় আপনারা যারা ক্ষতিগ্রস্ত তারাই সরাসরি আবেদন করবেন। যতোটুকু ক্ষতি হয়েছে ততটুকুই বলবেন। ১৯-৩০ শে জুন সেই আবেদনগুলো খতিয়ে দেখবে সরকার। এরপর ১-৮ জুলাই-এর মধ্যেই সরাসরি ক্ষতিগ্রস্তরা ব্যাংক একাউন্টে টাকা পেয়ে যাবেন।
একুশের নির্বাচনের সময়ে তৃণমূলের তরফে দুয়ারে রেশনের কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। ক্ষমতায় আসার পর সেই কাজ ইতিমধ্যে একাধিক জেলায় শুরু হয়েছে। কিন্তু আমফানের সময় ত্রান বিলি ও পুনর্বাসনের কাজ নিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে থেকে তৃণমূল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মুহুর্মুহু অভিযোগ উঠে এসেছিল। বিজেপির ভোট প্রচারে সেটাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারও করেছে।
ইয়াসের পর সেই পরিস্থিতির আর পুনরাবৃত্তি চান না মুখ্যমন্ত্রী। প্রথমে দুয়ারে সরকার তারপর দুয়ারে রেশন। এবার দুয়ারের ত্রানে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
প্রায় দুদিন ধরে নিজে কন্ট্রোল রুমে থেকে বাংলার ক্ষয়ক্ষতি কতটা ত বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন কয়েক দিনের মধ্যে গোটা রাজ্যের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব হাতে চলে আসবে। তবে এখনই যা হিসেবে পাওয়া গেছে তাতে যসের প্রভাবে বাংলায় প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর আগে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিভিন্ন দপ্তরের সচিবের কাছে থেকেও ক্ষতির খতিয়ান নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন বিপর্যয় কাটলে সবার আগে দ্রুত উদ্ধারকাজ ও ক্ষতিপূরণের কাজ শুরু করা হবে।
মুখ্য সচিবের নেতৃত্বে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। মুখ্য সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন যসের প্রভাবে বাংলার ১.১৬ লক্ষ হেক্টর কৃষিজমির ক্ষতি হয়েছে। এতে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা। এছাড়াও গত দুই থেকে তিন দিনে বিভিন্ন জায়গায় টর্নেডোর কারণে বহু বাড়ির ক্ষতি হয়েছে, ভেঙে গিয়েছে অজস্র কাঁচা বাড়িও। তারাও ক্ষতিপূরণ পাবেন বলে জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্য আপাতত এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে যসের ত্রাণের কাজের জন্য।

