ঝাড়গ্রামে কুলটিকরির পাটাশোলে বিশ্ব পরিবেশ দিবসের কর্মসূচি

আমাদের ভারত, ঝাড়গ্রাম, ৫ জুন: শনিবার বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষ্যে ঝাড়গ্রাম জেলার কুলটিকরির পাটাশোল মাঠে অনুষ্ঠিত হল নানা কর্মসূচি। এদিন বৃক্ষরোপন কর্মসূচির পাশাপাশি ভেষজ উদ্যানের সূচনা, পরিবেশ সচেতনতা মূলক আলোচনা শিবির অনুষ্ঠিত হয়। কুলটিকরি এসসি হাইস্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গৌর সাধন দাস চক্রবর্তী, সুবীর কুমার মন্ডল, সর্বেশ্বর মহাপাত্র এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় হয়। এদিন প্রায় ১২০টি গাছের চারা লাগানো হয়। যার মধ্যে বেশিরভাগই ভেষজ উদ্ভিদ।

এদিনের অনুষ্ঠানে কড়িয়াশোল হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক শমীক পাত্র তাঁর মেয়ের জন্মদিন উপলক্ষ্যে ৫০ জন শিশুকে কিছু টিফিন খাওয়ালেন ও চারা গাছ রোপন করলেন। এলাকার বিশিষ্ট শিক্ষক সুজয় পাত্রও এদিন তাঁর ছেলের জন্মদিন উপলক্ষ্যে শিশুদের মধ্যে কিছু চকলেট বিলি করেন এবং কয়েকটি চারাগাছ রোপন করেন।

উল্লেখ্য, পরিবেশপ্রেমী শিক্ষক গৌর বাবুর উদ্যোগে প্রায় তিন বছর আগে আর্থ কেয়ার এন্ড সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন নামের এই সংস্থাটি গঠিত হয়। মূলত পরিবেশ নিয়ে কাজ করা এই অরাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনটি আগেও প্রায় হাজার দুয়েক গাছ এই এলাকায় রোপন করেছে এবং সারা বছরই তার রক্ষণাবেক্ষণ করে। পাশাপাশি পিছিয়ে পড়া শ্রেণির ছাত্র ছাত্রীদের জন্য বিকেলে একটি পাঠশালাও স্থাপন করেছে। আজকের এই অনুষ্ঠানটি পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের সাঁকরাইল কেন্দ্র, সুবর্ণরৈখিক ভাষা ও সংস্কৃতি চর্চার গ্রূপ “আমারকার ভাষা আমারকার গর্ব ” প্রভৃতি সংস্থার সম্মিলিত উদ্যোগে আয়োজিত হল। আজকের দিনের প্রাসঙ্গিকতা উপলক্ষে বলতে গিয়ে গৌরবাবু সাধারণ মানুষকে আরও বেশি করে গাছ লাগানোর জন্য এগিয়ে আসতে অনুরোধ করেছেন। সামনের বৃষ্টির মরসুমে এই ভেষজ উদ্যানে ৩০ লটি প্রজাতির ৮০০টি ভেষজ উদ্ভিদ লাগানো হবে। সমাজের যে কোনও ব্যক্তি যেকোনো উপলক্ষ্যে এখানে বনসৃজন কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারেন। নূন্যতম একটি রক্ষণাবেক্ষণ খরচের বিনিময়ে পৃথিবীর সামান্য অংশ যাতে আরও সবুজ আরো বিশুদ্ধ হয়ে উঠতে পারে সেই উদ্দেশ্যেই কিছু পরিবেশপ্রেমীর এই উদ্যোগ।এই কর্মসূচিকে রূপায়িত করতে এগিয়ে এসেছেন পরিবেশপ্রেমী মানুষ ও ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *