লকডাউনে কাজ বন্ধ, ফুচকা বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন টিটাগড় বিবেক নগরের ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্রী

প্রতীতি ঘোষ, ব্যারাকপুর, ২৩ জুন: টিটাগড় বিবেকনগরের
বাসিন্দা জ্যোতির্ময়ী সাহার চোখে স্বপ্ন ছিল প্রাইভেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে পাশ করে ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি বাধ সাধলো তাঁর স্বপ্নে। দাদা এক বেসরকারি কোম্পানিতে কাজ করতেন, লকডাউন এর ফলে দাদার মাসিক মাইনে হাফ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। আর জ্যোতির্ময়ীর বাবার ১০ বছর যাবত বন্ধ মুদির দোকান।এমত অবস্থায় সংসার কিভাবে চালাবে সেটা কোনওভাবেই বুঝে উঠতে পারছিলেন না ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্রী জ্যোতির্ময়ী সাহা। এই দুঃসময়ে মাথায় এসেছিল একমাত্র মুদি দোকান বিক্রি করার কথা, তখন হঠাৎ করে জ্যোতির্ময়ী সাহার মাথায় খেলে গেলো ফুচকা বিক্রি করার ভাবনা। যেমন ভাবনা তেমন কাজ।

মা সুশীলা সাহা ও দাদা দেবজ্যোতি সাহার সহযোগিতায় ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্রী এই অসময়ে তাদের বন্ধ থাকা দোকানে ফুচকা বিক্রি করা শুরু করে দিলেন। এজন্য স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের অন্যান্যদের কাছ থেকে কটু কথাও শুনতে হয় সাহা পরিবারকে।

দোকানের নামকরণ করল “ফুচকাওয়ালা”। খড়দহ স্টেশন রোডে এই দোকানে মুখরোচক ফুচকার টানে ভিড় জমাতে শুরু করেন এলাকার ছোট থেকে বড় সব বয়সী মানুষ। বর্তমানে ফুচকা বিক্রি করেই নিজেদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে চান দাদা এবং বোন। কিন্তু লক্ষ্যে পৌঁছানোর পর এই ফুচকা বিক্রির পেশা কখনোই মন থেকে ভুলতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন দাদা এবং বোন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *