পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ৬ নভেম্বর: অপহরণের ২৪ ঘন্টা না পেরোতেই বস্তা বন্দি মৃতদেহ উদ্ধার আট বছরের শিশুর। ঘটনাকে ঘিরে রণক্ষেত্র বালুরঘাটের এ.কে গোপালন কলোনী এলাকায়। জনরোষে পুড়লো অভিযুক্ত প্রতিবেশী মানস সিং’য়ের বাড়ি। মৃত শিশু দ্বীপ হালদারকে এমন নৃশংস ভাবে খুন করবার ঘটনা মেনে নিতে না পেরে উত্তেজিত জনতা ব্যাপক ভাঙ্গচুর চালায় স্থানীয় গুলমোহর অডিটরিয়ামের অফিস রুমেও। চলে বালুরঘাট থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ। যদিও পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও তুমুল উত্তেজনা রয়েছে শহরের ওই এলাকায়। বসানো হয়েছে পুলিশ পিকেট।
জানা যায়, শনিবার ঘুড়ি কিনে দেওয়ার নাম করে আট বছরের শিশুকে অপহরণ করার অভিযোগ ওঠে প্রতিবেশী যুবক মানস সিং’য়ের বিরুদ্ধে। ওইদিন সন্ধে থেকে নিখোঁজ হয়ে যায় দীপ হালদার নামে ওই আট বছরের ছোট্ট শিশুটি। প্রতিবেশী তথা ওই অভিযুক্ত যুবকের কিনে দেওয়া ঘুড়ি নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়েই আর ফেরেনি সে। পরিবারের লোকেদের অভিযোগ, শনিবার সকাল থেকেই ছোট্ট দীপকে অপহরণ করার ছক কষেছিল প্রতিবেশী যুবক মানস সিং। ঘুড়ি কিনে দিয়ে ডেকে নিয়ে যাবার পর থেকেই আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি ছোট্ট ওই শিশুটির। যা নিয়েই পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অসহায় ওই পরিবার। ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিল অভিযুক্ত ও তার পরিবার। রবিবার সন্ধ্যায় একে গোপালন কলোনী এলাকায় খাড়ির জঙ্গল থেকে ওই শিশুর বস্তবন্দি মৃতদেহ উদ্ধার হতেই উত্তেজিত হয়ে যায় এলাকার বাসিন্দারা। সমগ্র ঘটনায় থমথমে পরিস্থিতি এলাকায়। যদিও পরিস্থিতি আঁচ করেই অভিযুক্ত মানস সিং বালুরঘাট থানায় আত্মসমর্পণ করেছে। যাকে রাখা হয়েছে গঙ্গারামপুর থানায়।
এলাকার কাউন্সিলর বিপুল কান্তি ঘোষ এদিন কাঁদতে কাঁদতে বলেন, এই ঘটনা তিনি মেনে নিতে পারছেন না। মা হারা শিশুটিকে হোমে রাখবার কথা বলে যাবতীয় ব্যবস্থাও করেছিলেন। পুজোর পরে ওকে ভালো জায়গায় রাখবেন। কিন্তু তার সাথে এমন মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটবে তিনি ভাবতেও পারেননি।

