অশোক সেনগুপ্ত
আমাদের ভারত, ২৩ এপ্রিল: স্বাধীনতার ৭৫ বছরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রদর্শনী ছড়িয়ে দেওয়ার আর্জি জানালেন বিশেষজ্ঞরা। ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য লেখ্যাগার প্রভৃতির ঘেরাটোপ থেকে বেড়িয়ে ‘দুয়ারে প্রদর্শনী’ করার আবেদন করেছেন তাঁরা।
বারাকপুরের গান্ধী সংগ্রহশালার সচিব ডঃ প্রতীক ঘোষ এই প্রতিবেদককে জানান, “দেশের মাটি ফিরে পাওয়ার লড়াই। যুদ্ধ, আন্দোলন আর নিজেদের স্বতন্ত্রতা বাঁচিয়ে রাখার অক্লান্ত চেষ্টা। ব্রিটিশ বন্দিদশা থেকে ভারতবর্ষের মুক্তির স্বপ্ন, আকাঙ্খা আর চাহিদায় দিন গুনেছিলেন প্রতিটা মানুষ। অন্যায় অত্যাচার, সহস্র প্রাণের বলিদানের শেষ দিন ১৯৪৭ সালের ১৫ অগস্ট। স্বাধীনতা সংগ্রামীদের স্পর্ধায় হাজার অপমানের পর নিজের মর্যাদা ফিরিয়ে আনার ভারতবর্ষ আজকের সেই গৌরবান্বিত ৭৫ বছরের সন্ধিক্ষণে সমান মহিমায় উদ্ভাসিত।
স্বাধীনতার ৭৫ বছর সম্পূর্ণ। তাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন আমাদের ভাবী প্রজন্মের কাছে সর্ববৃহৎ এই আন্দোলনের পুঙ্খানুপুঙ্খ ইতিহাস চিরস্মরণীয় রূপে উদ্ভাসিত করবার বিষয়ে সর্বপ্রকার পরিকল্পনা করা। তাই সরকারী ও বেসরকারী সর্বস্তরেই প্রয়োজন এই বিষয়ে গবেষণা ও তার মাধ্যমে উদ্ভূত তথ্য জনসমক্ষে নানান অনুষ্ঠান, প্রকাশনা, প্রদর্শনীর মাধ্যমে প্রকাশ ও প্রসার করা।
ইতিহাস চর্চিত বিষয় ভবিষ্যতকে জ্ঞান সমৃদ্ধ করলেও, একথা হয়তো স্বীকার করতেই হয় যে আজও অনেক ঘটনা, অনেক আত্মত্যাগী স্বাধীনতা সংগ্রামীদের পরাধীনতার গ্লানি থেকে মুক্তির জন্য আত্ম বলিদানের বাস্তব কাহিনী আমাদের কাছে অধরা। কারণ সেই অজানা ইতিহাস, সেই আত্মত্যাগী অমর শহীদদের নিয়ে হয়তো ইতিহাসের পাতাতেও চর্চা হয়নি বিস্তৃতভাবে। অথচ আধুনিক এই সমাজের সঠিক পথ প্রদর্শক হিসেবে ভীষণভাবে প্রয়োজন সেই অপ্রসারিত ইতিহাসকে গবেষণার ভিত্তিতে বর্তমান প্রজন্মের কাছে উন্মোচিত করা।
এই জন্য প্রয়োজন সেই মহান শহীদদের বিষয়ে তথ্য সমৃদ্ধশালী প্রদর্শনীর আয়োজন। এই বিষয়ে বাংলা ও বাঙ্গালীর অব্যক্ত ঘটনা, বীরাঙ্গনাদের ভূমিকা, ঘটনার ঘনঘটায় অপ্রকাশিত বাঙ্গালী শহীদদের অবদান যদি এইরকম বিভিন্ন প্রদর্শনীর মাধ্যমে পশ্চিম বঙ্গের প্রতিটি প্রান্তে আয়োজিত হয় এবং ভ্রাম্যমাণ প্রদর্শনী হিসেবে প্রান্তিক অঞ্চলগুলিতেও প্রদর্শিত হয়, তাহলে হয়তো আমাদের এই বাংলার প্রত্যেকটি কোণের অজানা অনেক ইতিহাস চর্চিত হবে এবং বর্তমান ও ভাবী প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতার ৭৫ বছরের এমন গৌরবের মুহূর্তে নতুনভাবে আরও একটি ইতিহাস প্রসিদ্ধ অধ্যায় উন্মোচিত হবে। তাই এই বিষয়ক প্রদর্শনী বাস্তবিকই আমাদের আগামী দিনে চলার পথে এক ভিন্ন রকমের অনুভূতির প্রকাশ ও অনুপ্রেরণা হয়ে উঠতে পারে।“
এই মন্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছেন স্বাধীনতা সংগ্রামের গবেষক অধ্যাপক শুভেন্দু মজুমদার। তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, “খুব সুন্দর ভাবনা। আমার একটা আবেদন আছে উদ্যোক্তাদের কাছে। সরকারের উদ্যোগে এই প্রদর্শ বস্তুসামগ্রী ভ্রাম্যমান বাসে জেলায় জেলায় নিয়ে যাওয়ার আয়োজন করা হোক। তাতে অনেক মানুষ জানতে পারবে। দূর মফস্বসের মানুষেরা কজন স্টেট আর্কাইভসের খবর রাখেন? তাছাড়া সাধারণ মানুষের পক্ষে শুধু এর জন্যে কলকাতায় যাওয়া খুবই ব্যয়সাপেক্ষ। স্বাধীনতার অমৃত মহোৎসব শুধু কলকাতায় থিয়েটার রোডে আর ভিক্টোরিয়া চত্বরেই চলবে নাকি? তাতে আমজনতার অংশগ্রহণ কতখানি? স্বামী বিবেকানন্দের ১৫০ তম জন্মজয়ন্তী উদযাপনের জন্য ভারতীয় রেলের দুটি কামরাকে বিশেষভাবে সুসজ্জিত করে স্বামীজির জীবন ও দর্শন তুলে ধরা হয়েছিল। সারা দেশের বড় বড় স্টেশনে সেই বিশেষ ট্রেন পরিক্রমা করেছে। লক্ষ লক্ষ মানুষ দেখেছেন।“

