আমাদের ভারত, ২১ আগস্ট: প্রতি কেজি চিনির দাম ১২ দিনে বেড়েছে ১০ টাকা। এক ধাক্কায় ২০% দাম বৃদ্ধির জেরে মাথায় হাত পড়েছে সাধারণ মানুষের। এই পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞদের অনুমান, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে চিনির দাম আরো বাড়বে, যার প্রভাব পড়বে অন্যান্য খাদ্যপণ্যে। এদিকে সামনেই একের পর এক উৎসব, যেখানে মিষ্টি একরকম অপরিহার্য বলা যায়।
চিনির দাম বাড়ার কারণ হিসেবে চলতি বছরে বর্ষা অনিয়মিত হওয়া, আখের উৎপাদন বেশ কিছুটা মার খাওয়া। তবে তার সঙ্গে ইথানল কারখানায় আখের চাহিদা বৃদ্ধি বলেও মনে করা হচ্ছে। ইথানলের সরবরাহ বৃদ্ধির জন্য গত কয়েক বছরে ইথানল ফ্যাক্টরি বৃদ্ধিতে উৎসাহ দিয়েছে কেন্দ্র। ইথানল তৈরিতে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ আখের রসের প্রয়োজন। বিপুল চাহিদা মেটাতে এই কারখানা গুলি কৃষকদের কাছে কিছুটা বেশি দামে আখ কিনছে, যার ফলে এই মুহূর্তে চিনির মিল গুলিতে আখের সরবরাহ কম। সব মিলিয়ে চিনির উৎপাদন কমছে, ফলে বাজারের চাহিদা মত চিনির যোগান দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সেই কারণে চড়চড়িয়ে চিনির দাম বাড়ছে। আর তার সাথে বাড়ছে আমজনতার উদ্বেগ।
চিনির দাম বাড়ার ফলে তার প্রভাব সবার আগে পড়বে মিষ্টি ব্যবসার উপর। সামনেই একের পর এক উৎসব আসছে। চলতি মাসের শেষেই রাখি বন্ধন, তার পরে জন্মাষ্টমী, গণেশ পুজো, দুর্গা পুজো, ভাইফোঁটা, দীপাবলির মতো একের পর এক উৎসব। আর সেখানে মিষ্টি অত্যন্ত প্রয়োজন। কিন্তু চিনির দাম বাড়ায় মিষ্টির ক্রেতা- বিক্রেতা উভয় পক্ষেরই উপর চাপ বাড়বে। হু হু করে বাড়বে মিষ্টির দাম বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পাশাপাশি বাড়তে পারে প্যাকেটজাত মিষ্টি খাবার এবং পানীয়ের দামও। কেক, বিস্কুটের মতো নিত্য প্রয়োজনীয় খাবার, সফট ড্রিংকসে চিনি দেওয়া থাকে। চিনি দেওয়া এনার্জি ড্রিংকও মহার্ঘ হতে পারে। সব মিলিয়ে সমস্যায় পড়বে আমজনতা।
আগামী দিনে সমস্যা আরও বাড়তে পারে। কারণ চিনি উৎপাদনে এতদিন যে ভারত শুধু সাবলম্বী ছিল তাই নয়, প্রতিবছর বড় অঙ্কের চিনি রপ্তানিও করত, কিন্তু এ বছর ইথানল উৎপাদনের জোরালো ধাক্কায় এতটাই অভূতপূর্ব সঙ্কটের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে, বিদেশ থেকে প্রচুর চিনি আমদানির কথা ভাবতে হচ্ছে। ফলে অদূর ভবিষ্যতে চিনি খাওয়াটা বিলাসিতা হয়ে উঠতে পারে ভারতবাসীর কাছে বলে অনেকেই মনে করছেন।

