রাজেন রায়, কলকাতা, ৭ সেপ্টেম্বর: বাম জমানা থেকে রাজ্যে হাসপাতাল বা স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর হয়েছে আমূল পরিবর্তন। কিন্তু তা সত্বেও প্রচুর পরিমাণ বাঙালি জটিল চিকিৎসা হলেই দৌড়ান দক্ষিণ ভারতে। কেন নিজের রাজ্যে চিকিৎসা ব্যবস্থার উপর ভরসা নেই বাঙ্গালীদের? একই চিকিৎসায় কলকাতার বেসরকারি হাসপাতাল এবং ভোলোরের হাসপাতালের বিলের তূল্যমূল্য বিচার করে তা বুঝিয়ে দিল স্বাস্থ্য কমিশন। ভেলোর থেকে কলকাতার হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসা খরচ অনেক গুণ বেশি, তা পরিষ্কার করে দেওয়া হল স্বাস্থ্য ভবনের সামনে।
যেখানে দেখা গিয়েছে, কলকাতার হাসাপাতালে যে চিকিৎসা করতে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। সেই একই চিকিৎসায় ভেলোরের হাসপাতালে খরচ হয়েছে মাত্র ১ লক্ষ টাকার কিছু বেশি। এখানেই শেষ নয়। কলকাতায় চিকিৎসার পর যে ব্যক্তির পা বাদ যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল, সেই একই ব্যক্তি ভেলোরে চিকিৎসা করিয়ে সম্পূর্ণভাবে সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এই ঘটনাকে সামনে রেখে শহরের বেসরকারি হাসপাতালগুলির সামনে আয়না তুলে ধরতে তাদেরকে ভেলোর হাসপাতালের বিল দেখানো হয়েছে বলে খবর।
ফর্টিস হাসপাতালের একটি ঘটনাকে সামনে রেখে সোমবার কমিশনের চেয়ারম্যানের পর্যবেক্ষণ বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে কার্যত আয়নার সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। বাইক দুর্ঘটনায় আহত বিকাশ মণ্ডল গত ১৭ জানুয়ারি থেকে আনন্দপুর ফর্টিসে চিকিৎসাধীন ছিলেন। চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, বিকাশবাবুর দশ দিনে বিল হয়েছিল ৪ লক্ষ ৯৭ হাজার টাকা। লক্ষাধিক টাকা খরচ হয়ে যাওয়ার পরে রোগীর পা বাদ যেতে পারে বলে জানিয়েছিলেন চিকিৎসক। এ কথা শোনার পরে সিএমসি ভেলোরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বিকাশ। ঘটনাচক্রে, পা তো বাদ দিতে হয়ইনি। সেখানে দশ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পরে সুস্থ হয়ে ব্যারাকপুরের বাড়িতে ফিরেছেন বিকাশবাবু। দশ দিনে বিল হয় ১ লক্ষ ১৯ হাজার টাকা।
এই ঘটনার উদাহরণ টেনে চেয়ারম্যানের মন্তব্য, ভাল চিকিৎসক-সহ পরিষেবা থাকা সত্ত্বেও প্রতি বছর রাজ্যের প্রচুর সংখ্যক মানুষ এ জন্যই দক্ষিণে চিকিৎসা করাতে যাচ্ছেন। রাজ্যের কর্পোরেট হাসপাতালগুলিকে ভেলোরের হাসপাতালের বিলের কপি পাঠিয়ে নিজেদের সংশোধন করতে বলা হবে বলে জানিয়েছেন চেয়ারম্যান। নতুবা অতিরিক্ত ব্যবসা করতে গিয়ে সাধারণ দুর্ঘটনা বা জরুরী পরিষেবা ছাড়া ভালো অস্ত্রোপচারের সুযোগ হারাবেন এরাজ্যের কর্মরত বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা।

