আমাদের ভারত, মালদা, ১৮ জানুয়ারি: প্রকাশ্য দিবালোকে দিনের পর দিন বাংলা থেকে বিহারে মাটি পাচার হয়ে যাচ্ছে। মেশিন দিয়ে চাষের জমি থেকে মাটি কেটে একের পর এক ট্রাক্টরের বোঝাই মাটি চলে যাচ্ছে বিহারের অবৈধ ইটভাটাগুলিতে। ভ্রুক্ষেপ নেই এলাকার ভূমি সংস্কার দপ্তর থেকে ব্লক প্রশাসনের। এমনকি মাটি নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি নদীতে মাটি ভরাট করে বাঁধ তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। যাতে মাটি বোঝাই ট্রাক তার খুব সহজেই যাওয়া-আসা করতে পারে। সমস্ত ঘটনা ঘটছে এলাকার মাটি মাফিয়াদের দাপটে। এমনটা চিত্র ধরা পড়েছে মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর ২ নম্বর ব্লক এলাকার সুলতান নগর গ্রাম পঞ্চায়েতের ডাটিয়ন গ্রামের কাছে যোগীলাল ব্রিজ এলাকায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রকাশ্য দিবালোকে এই ব্রিজের কাছে থাকা একটি নদীর উপরে মাটি ফেলে বেআইনি ভাবে অস্থায়ী বাঁধ তৈরি করা হয়েছে। আর এই বাঁধ দিয়ে নদীর পারে থাকা কৃষিজমি থেকে ব্যাপক হারে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে কম রেভিনিউ দিয়ে বেশি পরিমাণ মাটি কাটার নজির রয়েছে। সবটাই করছে এলাকার মাটি মাফিয়ারা। এর পিছনে ভূমি সংস্কার দপ্তরের আধিকারিকদের মদদ রয়েছে বলে দাবি এলাকার বাসিন্দাদের। এমনকি বেআইনি ভাবে নদী ভরাট করে বাঁধ দিয়ে জল চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন এলাকার মাটি মাফিয়ারা এর ফলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। গ্রামবাসী এর প্রতিবাদ করতে গেলে মাটি মাফিয়ারা প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও পর্যন্ত দিচ্ছেন বলে খবর।

এলাকার কৃষি জমি থেকে মাটি কেটে নিয়ে দিনের বেলাতেই পার্শ্ববর্তী রাজ্য বিহারে পাচার হয়ে যাচ্ছে। বিহারের বিভিন্ন অবৈধ ইটভাটাগুলিতে এই মাটি বিক্রি করা হচ্ছে। দিনের-পর-দিন ব্যাপকহারে এই বেআইনি কাজ চলছে যোগীলাল ব্রিজ এলাকায়। গ্রামবাসীরা এই ব্যাপারে স্থানীয় ভূমি সংস্কার আধিকারিকের দপ্তরে বারবার অভিযোগ জানিয়েও কোনো ফল হয়নি।
যদিও এ প্রসঙ্গে শাসকদলের বিধায়ক তাজমূল হোসেন জানান বিষয়টি আমার জানা ছিল না খোঁজ নিয়ে দেখছি। প্রয়োজনে আমি ওই এলাকার ভূমি সংস্কার আধিকারিকের সঙ্গে কথা বলব। এই ধরনের কাজকর্ম যাতে না হয় তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই ঘটনাকে ঘিরে তীব্র কটাক্ষ করেছে এলাকায় বিজেপি নেতৃত্ব। বিজেপি নেতা কিষান কেডিয়া জনান, শাসক দলের নেতাদের মদতে হরিশ্চন্দ্রপুর ২ নম্বর ব্লকের বিভিন্ন অঞ্চলে এই ভাবে বেআইনি কার্যকলাপ চলছে। এর পিছনে যেমন নেতারা রয়েছেন তেমনই ভূমি সংস্কার আধিকারিক মদত দিচ্ছেন।
যদিও এ বিষয়ে ক্যামেরার সামনে হরিশ্চন্দ্রপুর ২ নম্বর ব্লকের ভূমি সংস্কার আধিকারিক সুরজিৎ দাস কোনও মন্তব্য করতে চাননি।
অন্যদিকে এ বিষয়ে চাঁচল মহকুমা শাসক কল্লোল রায়ের ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অবৈধভাবে মাটি কাটার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

