CM, BJP, WBCS, আপনাদের রাজনৈতিক কর্মী বানিয়ে ব্যবহার করব না, WBCS অফিসারদের বৈঠকে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখার বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

আমাদের ভারত, ১ জুলাই: রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোকে রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত রাখা হবে। ডাব্লিউবিসিএস (WBCS) আধিকারিকদের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট ভাষায় বার্তা দিলেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার রাজ্যের ডাব্লিউবিসিএস আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেন, প্রশাসনকে কোনভাবেই রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হবে না। একইসঙ্গে অতীত প্রশাসনিক সংস্কৃতি নিয়েও সরব হন শুভেন্দু অধিকারী।

তিনি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর এই প্রথম ডাব্লিউবিসিএস অধিকারীদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে বসেন। সেই বৈঠক থেকেই প্রশাসনের প্রতি নিজের সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি। তাঁর কথায়, ভয়- চাপ- কিংবা অন্য কোনো কারণে নিচু তলার আধিকারিকদের একাংশ দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন। তবে সেই পরিস্থিতি থেকে প্রশাসনকে বের করে আনতে হবে বলেও বার্তা দেন তিনি।

বৈঠকে উপস্থিত আধিকারিকদের উদ্দেশ্যে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, আপনাদের ব্যবহার করবো না। নির্বাচনে রাজনৈতিক কর্মী বানাবো না। প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখার প্রশ্নে তাঁর এই মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল। একই সঙ্গে তিনি জানান, অধিকারীদের পেশাগত এবং পদমর্যাদার বিষয়েও তার সরকার সম্পূর্ণ গুরুত্ব দেবে।

তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে প্রশাসনিক পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, সেই সময় প্রশাসনিক শৃঙ্খলা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিল। প্রশাসনিক কাঠামোকে নতুন করে গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের রাজনৈতিক সংস্কৃতির মধ্যে কাজ করতে বাধ্য হয়েছেন বহু অধিকারিক। এখন এই পরিবেশ বদলানোই তাঁর সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

বৈঠকে প্রশাসনিক আচরণ এবং সরকারি কর্মীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে একাধিক প্রশাসনিক বৈঠক করেছেন তিনি, কিন্তু কখনো কোনো সরকারি কর্মীকে প্রকাশ্যে অসম্মান করেননি। তাঁর বক্তব্য, প্রশাসনের সঙ্গে সুষ্ঠু ও পেশাদার সম্পর্ক বজায় রাখা এই সরকারের অন্যতম দায়িত্ব।

এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ তুলে বলেন, অতীতে আইএএস এবং আইপিএস আধিকারিকদের মঞ্চে বসিয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আক্রমণ করা হতো। এই ধরনের রাজনৈতিক ব্যবহারের বিরোধিতা করেন তিনি। আধিকারিকদের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট বক্তব্য, কোন কাজ করা উচিত, আর কোনটা উচিত নয়, তা তারা অনেক আগেই জানেন। ফলে প্রশাসনের অভিজ্ঞতাকে সম্মান জানিয়ে সরকার কাজ করবে।

পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক আর্থিক অভিযোগ তুলে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, বাংলার বাড়ি প্রকল্পে দুর্নীতি হয়েছিল। মিড ডে মিল প্রকল্পের অর্থ অন্য খাতে ব্যবহার করা হয়েছিল। করমন্ডল এক্সপ্রেস দুর্ঘটনায় আহতদের সাহায্যের জন্য মিড ডে মিল তহবিল থেকে টাকা দেওয়া হয়েছিল। তার অভিযোগ, এভাবে কি সরকারি প্রকল্পের টাকা অন্য খাতে ব্যবহার করা যায়?

প্রশাসনিক আধিকারিকদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জনকল্যাণ, সরকারের প্রধান লক্ষ্য। ভয় নয়, মানুষের ভরসা নিয়ে কাজ করতে হবে। পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক বিভাজন যেন না থাকে। সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করতে হবে।

তিনি মনে করিয়ে দেন, সরকারের কাজ বাস্তবায়ণ করেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা, তাই তাদের সহযোগিতা ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়। যে কাজ করবে আমার কাছে সেই সেরা। আধিকারিকদের কাজের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

কেন্দ্র- রাজ্য সম্পর্ক নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রের সঙ্গে অযথা সংঘাতে না গিয়ে সহযোগিতার মাধ্যমে উন্নয়ন ও প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ণে জোর দেওয়া হবে।

একই সঙ্গে রাজস্ব আদায়ে সরকারে সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর দাবি, দুর্নীতি রোধ করে রাজস্ব আয় বাড়ানো সম্ভব হয়েছে। আগে সরকার যদি পাথর খাদান থেকে ৭০ কোটি টাকা আয় করে থাকে, তাহলে অল্প সময়ে সেখানে ১২০০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছি।

প্রশাসনিক আধিকারিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আগের মুখ্যমন্ত্রী বলতেন আমি সব জানি। আমাকে কিছু বলবেন না। আমি বলি আমি অনেকটাই জানি, কিন্তু সবটা জানি না। আপনারা বলবেন, আমি শুনবো। আগামী ছয় মাস পর আবার আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন মুখ্যমন্ত্রী বলে জানাগেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *