ঘাটালে জলবন্দি মানুষজন, মিলছে না পানীয় জল ও ত্রাণ, দেখা নেই জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ বন্যা দুর্গতদের

কুমারেশ রায়, আমাদের ভারত, মেদিনীপুর, ২ আগস্ট:
বন্যায় জলবন্দি মানুষজন বলছেন পানীয় জল নেই, ত্রাণ নেই, ওয়ার্ড কাউন্সিলর বা কোনও জনপ্রতিনিধির দেখা নেই। উল্টোদিকে শাসক দলের নেতারা বলছেন সব আছে। কোনও কিছুর অভাব নেই। শুধু তাই নয়, তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি অজিত মাইতি বন্যার মধ্যে রাজনীতি করতেও ছাড়লেন না। ঘাটালে বন্যা পরিদর্শনে এসে তিনি বলে গেলেন, আগামী পুরসভা নির্বাচনে তৃণমূল জিতবে। মানুষ যখন জলবন্দি, সমস্যায় জেরবার, সেই মুহূর্তে তৃণমূলের জেলা সভাপতির এই রাজনীতি মানুষ ভালো চোখে নিচ্ছে না। ঘাটাল পৌরসভা সহ পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষজনের অভিযোগ, ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের কোনও পাত্তা নেই। তারা ক্ষোভ উগরে দিয়ে রীতিমতো রাগে ফুঁসছেন।

রান্নাঘরে এক কোমর জল। খাবারের কোনও ব্যবস্থা নেই। কেউ বা ছাদে বসে দিন কাটিয়েছেন। ডিঙিতে করে দূর থেকে এসে সেন্ট্রাল বাস স্ট্যান্ড থেকে কোনও রকমে পানীয় জল টুকু নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তাও আবার অপর্যাপ্ত।মাত্র দুটো জলের ট্যাঙ্ক। কিচ্ছু নেই, কারোও দেখা নেই, জানালেন বন্যা দুর্গত এক ব্যক্তি। প্রশাসনের তরফে এবং পুরসভার কোনও জনপ্রতিনিধির টিকিও দেখা যায়নি বলে অভিযোগ বন্যাকবলিত এলাকার জলবন্দি মানুষজনের।

মূলত তৃণমূল কংগ্রেসের জনপ্রতিনিধিদের নিশানা করে অভিযোগ করেন জলবন্দি মানুষজন, এই মুহূর্তে মানুষজনের খোঁজখবর পর্যন্ত নিতে যাননি কাউন্সিলররা। এই অভিযোগের উত্তর দিতে গিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি অজিত মাইতি বলেন, ত্রাণ, পানীয় জলের অভাব নেই। জনপ্রতিনিধিরা খোঁজ নিচ্ছেন না এই অভিযোগের উত্তরে তিনি বলেন, এইতো আজ আমরা এসেছি।

মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র অবশ্য কিছুটা ডিফেন্সে ব্যাট চালিয়ে বলেন, তিনি খোঁজখবর নিয়ে দেখবেন এবং প্রয়োজনে পুরসভার প্রশাসকের সাথে কথা বলবেন।

ঘাটালের মহকুমা শাসককে সরাসরি ঝান্ডা ধরে রাজনীতি করার কথা বললেন ঘাটাল বিধানসভায় বিজেপির বিধায়ক শীতল কপাট। শীতল বাবু ক্ষোভের সুরে বলেন, একজন বিধায়ক হয়ে যখনই মহকুমা শাসকের কাছে বন্যা কবলিত এলাকার জন্য পানীয় জল এবং ত্রাণের আবেদন জানাই, তখনই তিনি বলেন রাজনৈতিক দলকে এসব দেওয়া যাবে না। মহকুমা শাসক প্রথম থেকেই রাজনীতি করছেন বলে মন্তব্য বিধায়কের। তিনি বলেন, আমরা কয়েক দিনের মধ্যে কমিউনিটি কিচেন করবো, জলবন্দি মানুষজনের কাছে খাবার পৌঁছানোর জন্য।
আমরা আমাদের সীমিত সাধ্যের মধ্যে চেষ্টা করেছি জল এবং কিছু খাবার মানুষজনকে পৌঁছে দিতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *