আমাদের ভারত, হাওড়া, ৩০ জুলাই: বুধবারের পর বৃহস্পতিবারও রাতভর বৃষ্টিতে হাওড়া জেলার বিভিন্ন জায়গায় পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হল। শুক্রবারেও জল যন্ত্রণা অব্যাহত থাকল। ফলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়ল। এককথায় তিনদিন ধরে চলা প্রবল বর্ষণে নাভিশ্বাস অবস্থা হাওড়া জেলাবাসীর। কোথাও চলল নৌকা, কারোর বাড়ির ভিতর জমল জল, কোথাও আবার রাস্তায় বসে গেল অ্যাম্বুলেন্সের চাকা। শুধু তাই নয় কারশেডে জল ঢুকে ব্যহত হল ট্রেন চলাচলও। দুর্ভোগের এই চিত্র হাওড়ার সর্বত্র। হাওড়ার বালি ও বেলুড়ের বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন। এমনকি বেলুড়ের কিছু এলাকা এতটাই জলমগ্ন যে সেখানে চললো নৌকাও।

শুক্রবার হাওড়ার ডুমুড়জলায় জমা জলে বসে গেল অ্যাম্বুলেন্সের চাকা। স্থানীয় ও পুলিশ প্রশাসনের তৎপরতায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া গেল। হাওড়ার টিকিয়াপাড়া কারশেডে জমে গেছে জল। প্রবল বর্ষণের জন্য হাওড়া ডিভিশনের বেশ কিছু এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল বাতিল করা হয়। বেশ কিছু ট্রেন দেরিতে চলে। স্টাফ স্পেশাল লোকাল ট্রেন কিছু বাতিল ও কিছু দেরিতে চলে।
অন্যদিকে হাওড়ার দাশনগরের শিয়ালডাঙা এলাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ঠ হয়ে মারা গিয়েছেন এক ব্যক্তি। তাঁর নাম হেমন্ত সিং(৩৯)। জানা গিয়েছে, এদিন সকালে তিনি ঘরের বিদ্যুতের সুইচ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ঠ হন। পরিজনেরা তাঁকে হাওড়া জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার চিকিৎসক হেমন্ত সিংকে মৃত বলে ঘোষণা করে।

অপরদিকে হাওড়ার বি গার্ডেন এলাকাতেও এক ব্যক্তি মারা যান। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, এদিন সকালে সেখানে অলোক দাস (৩৯) নামে এক ব্যক্তি সাইকেল করে দরকারি কাজে বেড়িয়েছিলেন। পুরো রাস্তাটি জলমগ্ন ছিল। রাস্তার ধারেই ছিল পুকুর। অলোকবাবু সাইকেল চালানোর সময় রাস্তা জলমগ্ন থাকায় বুঝতে না পেরে পুকুরে সাইকেল নিয়ে পড়ে যান। সেখানেই তলিয়ে গিয়ে তাঁর মৃত্যু হয়।
এদিকে শুক্রবারেও উলুবেড়িয়া,পাঁচলা, বাগনান, আমতার বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়েছিল। উলুবেড়িয়া পুরসভার একাধিক ওয়ার্ডের রাস্তাঘাট জলমগ্ন হয়ে পড়ার পাশাপাশি নীচু এলাকায় থাকা বাড়িতে জল ঢুকে যায়। পাঁচলার বেলডুবি গ্রাম পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হওয়ার পাশাপাশি পঞ্চায়েত অফিসে জল ঢুকে পড়ে। বাগনান বাসষ্ট্যান্ড সহ বাগনান হাসপাতাল চত্বর জলমগ্ন হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়ে সাধারণ মানুষ।


