আমাদের ভারত, নদিয়া, ১৭ অক্টোবর: স্বামী বিবেকানন্দ বলেছিলেন, “জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর।” স্বামীজির এই মহান উক্তির সাথে সকলেই একমত। সেবাই পরম ধর্ম। হিন্দু ধর্মের মূল কথাই হল, মানব সেবা। কালে কালে যুগে যুগে ধর্ম সাধকরা মানুষের মাঝে প্রচার করেছে যে, সৃষ্টিকর্তাকে পেতে হলে আগে তাঁর সৃষ্টিকে পেতে হবে। মানুষকে ভালবাসতে হবে। যুগাবতার স্বামী প্রণবানন্দ বলেছিলেন, “মানুষের মতো মানুষ তৈরি না হলে সমস্ত প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যাবে।…একটি খাঁটি মানুষ তৈরি হলে সমগ্র জাতি তার শক্তিতে শক্তিমান হয়ে একটা নতুন অভ্যুত্থান, একটা নতুন যুগের সৃষ্টি করতে পারে।”
সৃষ্টিকর্তার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানুষকে ভালোবাসলে সত্যিকারের ধর্ম পালন করা হয় বলে ‘ভারতীয় সেবা ফাউন্ডেশন ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট’ বিশ্বাস করে। সেই ভাবাদর্শ দ্বারা পরিচালিত হয়েই সমাজের মানুষের হয়ে তারা কাজ করে চলেছে। ২০২০ সালের ২৯ শে সেপ্টেম্বর সরকারি ভাবে নথিবদ্ধ হলেও তার যাত্রা হয়েছিল ২০১৮ সাল থেকে। মূলত পাঁচটি কাজ সমাজের মানুষের জন্য করে চলেছে তারা। ৫-ই জুন ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস’-এ স্কুল- কলেজ-সরকারি প্রতিষ্ঠানের ফাঁকা জমিতে বৃক্ষরোপণ, ২১-শে জুন ‘আন্তর্জাতিক যোগা দিবস’ পালন, পুজোর আগে বাচ্চাদের বস্ত্র বিতরণ, শীতকালীন বস্ত্র বিতরণ, NMO-এর সহযোগিতায় মাসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবির ও সপ্তাহের প্রতি মঙ্গলবার চক্ষু পরীক্ষা শিবির আয়োজিত হয় শিমুরালির ‘হিন্দু মিলন মন্দির’-এ। এছাড়া তারা অ্যাপোলো, ডাঃ লাল প্যাথল্যাব, থাইরোকেয়ার প্রভৃতি বিভিন্ন কোম্পানির মাধ্যমে বিভিন্ন রকমের শারীরিক পরীক্ষা করিয়ে থাকে বাইরের অন্যান্য পরীক্ষা কেন্দ্রের থেকে ২০-৪০% কম মূল্যে।
ট্রাস্টের সদস্যবৃন্দদের উদ্যোগে এবং সভাপতি ড: তরুণ মজুমদারের আন্তরিক প্রয়াসে গতকাল বিজয়া সম্মিলনী হল শিমুরালির সানাই ভবনে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট কৃষি বিজ্ঞানী ড: কল্যাণ চক্রবর্তী, প্রাণী সম্পদ বিজ্ঞানী ড: রাসবিহারী ভড়, মিলন খামারিয়া, সুনীল মুন্সি, অরিত্র ঘোষ দস্তিদার ও ট্রাস্টের সম্পাদক কল্যাণ মজুমদার।
অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী সঙ্গীত পরিবেশন করেন উত্তীর্ণা বোস। এরপর বক্তব্য রাখেন ড: চক্রবর্তী। স্বামী প্রণবানন্দের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে হিন্দু সমাজকে একত্রিত করে সেবার দ্বারা সংঘবদ্ধ করার কথা বলেন তিনি। আজকের সামাজিক অবক্ষয় রোধে সেবার গুরুত্ব কতখানি তা তিনি সর্বসমক্ষে তুলে ধরেন।
ড: ভড় প্রাণী সম্পদের বিকাশ কীভাবে করা সম্ভব এবং তার মাধ্যমে মানব ও সমাজসেবা কি করে করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করেন।
এদিন মিলন খামারিয়া এই সেবা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্ব কতটা সেই বিষয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি জৈব চাষের মাধ্যমে বিষমুক্ত ফসল উৎপাদন করে নিজে খাওয়া ও অন্যকে খাওয়ানো যে পরম সেবা বর্তমান সময়ে, সেই বিষয়ের উপর আলোকপাত করেন।
এই ট্রাস্টের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে সভাপতি ড: তরুণ মজুমদার জানান, “সেবাকে আমরা ধর্ম হিসেবে বিবেচনা করি। তাই মানুষের যতটা উপকার করা যায় তার চেষ্টা করছি আমরা। মানুষের স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে প্রতিদিন যোগাভ্যাসের আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। মানুষ মানুষের জন্য- এই বার্তা আমরা সমাজের মানুষের কাছে দিতে চাই। আসুন আমরা সবাই এগিয়ে এসে একটা সুন্দর সুস্থ সমাজ গঠন করি।”

