তৃতীয় বড় অর্থনীতি হিসেবে আত্মপ্রকাশের জন্য তৈরি হচ্ছে ভারত, ২০২৭- এ টপকে যাবে জার্মানিকে

আমাদের ভারত, ১৭ অক্টোবর: ব্রিটেনকে পেছনে ফেলে এ বছর বিশ্বের প্রথম পাঁচ অর্থনীতির মধ্যে শামিল হয়ে গেছে ভারত। খুব দ্রুত আমেরিকা ও চিনের পরেই পৃথিবীর তৃতীয় বড় অর্থনীতি হিসেবে আত্মপ্রকাশের জন্য তৈরি হচ্ছে ভারত।

স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার একটি রিসার্চের রিপোর্ট অনুযায়ী ভারতে ২০২৭ সালের মধ্যেই জার্মানিকে পেছনে ফেলে চতুর্থ সবচেয়ে বড় অর্থব্যবস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে। সেখানে ২০২৯ এর মধ্যে জাপানের চেয়েও এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে বলা হয়েছে। এই দুই অর্থব্যবস্থাকে পেছনে ফেলে তিন নম্বরে যাওয়া শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা।

পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রুত এগিয়ে যাওয়া অর্থ ব্যবস্থা হিসেবে উঠে এসেছে ভারত। এর ফলে এটাও আলোচনায় উঠে আসতে শুরু করেছে মে, ভারত কি চিনকেও ছাপিয়ে যাবে? বিশেষ করে যেখানে ভারত ২০৪৭ পর্যন্ত উন্নত রাষ্ট্র হওয়ার টার্গেট নিয়েছে সেখানে সেই সময়ের মধ্যে অনুমান করা হচ্ছে যে ভারতীয় অর্থব্যবস্থা কবে চিনকে পেছনে ফেলবে?

যদি বর্তমান পরিস্থিতি হিসাব করে দেখা যায় তাহলে এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় আপাতত ভারতের অর্থনীতির আকার প্রায় ৩.৫ ট্রিলিয়ন ডলার। যেখানে চিনের অর্থনীতির পরিমাণ ১৭ ট্রিলিয়ন ডলার। জানা গেছে যে, ২০৪৭ পর্যন্ত ভারতের লক্ষ্য ২০ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থব্যবস্থা হিসেবে নিজেদের আত্মপ্রকাশ করা। যদিও এর জন্য বছরে সাত থেকে সাড়ে সাত শতাংশ উন্নয়নের প্রয়োজন রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত চিনকে টপকে এগিয়ে যেতে ২৫ বছর পর্যন্ত মোটামুটি সময় লাগবে। কারণ তখনও পর্যন্ত উন্নতি করতে করতে এগোবে ভারত এবং তুলনায় বড় অর্থনীতি হয়ে যাবে।

৩২ বছর আগে অর্থাৎ ১৯৯০ সালে ভারত এবং চিনের অর্থ ব্যবস্থার মধ্যে খুব কম পার্থক্য ছিল। কিন্তু এরপরে চিন আর্থিক উন্নতি ঘটাতে প্রায় এক্সপ্রেস গতিতে এগিয়ে যায় এবং তাদের জিডিপি ভারতের চেয়ে ৫.৪৫ গুণ বেশি হয়ে যায়। ভারতের প্রতি ব্যক্তির আয় যেখানে ২৫০০ ডলার গড়ে আয় করেন সেখানে চিনের প্রতি ব্যক্তির আয়‌১৭ হাজার ডলারের কাছে। ১৯৯১ সাল থেকে পাঁচগুণ আয় বাড়িয়েছে ভারত। যেখানে চিনে এক ব্যক্তি ২৪ গুন আয় বাড়িয়েছে। ভারতকে আপাত যুব শ্রমিকের সংখ্যা চিনের মোকাবিলায় অনেকটাই বেশি। তবে সমস্যা ভারতে শ্রমিকদের এডুকেশনাল স্কিল এর বিষয়ে। চিনের শ্রমিকরা অনেক বেশি দক্ষ।এছাড়া বর্তমান পরিস্থিতিতে সাইবার দক্ষতার যুগে যেখানে টেকনিকের শ্রমের তুলনায় দাম অনেক বেশি সেখানে টেকনলজি অনেক আগে। কিন্তু এখন ভারতের সেই দিকে ধীরে ধীরে এগোচ্ছে ও দক্ষতা বাড়াচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *