আমাদের ভারত, ১৩ জুলাই: ভ্যাক্সিনের মিক্স-ম্যাচ নিয়ে সতর্ক করলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার(হু) মুখ্য বিজ্ঞানী সৌম্যা স্বামীনাথন। কখনো কর্তৃপক্ষের ভুলে কখনো নিজের ইচ্ছায় ভিন্ন সংস্থার ভ্যাক্সিন নিচ্ছেন মানুষ। কিন্তু ভ্যাক্সিনের মিক্স-ম্যাচ বিষয় নিয়ে পর্যাপ্ত গবেষণা এবং তথ্যের অভাবে এই প্রক্রিয়াকে নিরাপদ মানতে নারাজ বিজ্ঞানীরা।
করোনা ভাইরাস দিনের পর দিন যতই শক্তিশালী হচ্ছে এবং তাঁর নতুন নতুন অভিযোজিত রূপ উদ্ভাবন হচ্ছে ততই বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীদের মাথাব্যাথা বাড়ছে তাঁর প্রতিকার খুঁজতে। সেই তাগিদেই নতুন নতুন ভ্যাক্সিন আসছে বাজারে। তবে ভ্যাক্সিন বাছাই নিয়ে সমস্যায় পড়ছে সাধারণ মানুষ। ভ্যাক্সিনের কার্যকারিতা, মূল্য, অনলাইন বুকিং এর সমস্যা, ভ্যাক্সিনের অপর্যাপ্ত সরবরাহ সব মিলিয়েই বাছাইয়ে বাঁধছে গণ্ডগোল। তাঁর মধ্যেই তৈরী হয়েছে ভ্যাক্সিন মিক্স-ম্যাচের ধারণা।
আবার অনেক দেশেই বাড়তি সতর্কতার জন্য ভ্যাক্সিনের দুটি ডোজের পরও বুস্টার ডোজ নেওয়া হচ্ছে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য। তবে এর কোনও তথ্য প্রমাণ মেলেনি কাজেই এর থেকে সতর্ক এবং বিরত থাকার পরামর্শ দিচ্ছে হু।
অথচ ইউকে, ইতালি, ইউএই, জার্মানির মত দেশগুলি অনিয়মিত ও অপর্যাপ্ত ভ্যাক্সিন জোগানের জেরে দেশবাসীর নিরাপত্তার স্বার্থে মিক্স-ম্যাচের অনুমতি দিয়েছে। এমনকি জুন মাসে ইতালির ৭৩ বছরের প্রধানমন্ত্রী মারিও দ্রাঘি দ্বিতীয় ডোজ হিসাবে ফাইজার নেন। প্রথম ডোজ নিয়েছিলেন অ্যাস্ট্রাজেনেকার। এছাড়া জার্মান চ্যান্সেলার অ্যাঞ্জেলা মার্কেল প্রথম ডোজ অ্যাস্ট্রাজেনেকা নিলেও দ্বিতীয় ডোজ নেন মডার্নার। যারা এখনও পর্যন্ত এই প্রক্রিয়ায় ভ্যাক্সিন নিয়েছে তাঁরা সকলেই সুস্থ এমনকি তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলক বেশি বলে দাবি করেছেন সেখানকার বিশেষজ্ঞরা।
এই প্রসঙ্গেই গত ২৫ জুন লান্সেট প্রি-প্রিন্ট সার্ভারে অক্সফোর্ড ‘কম-কোভ’ নামে একটি স্টাডি রিপোর্ট প্রকাশ করে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, মহিলা পুরুষ মিলে ৮৩০ জনকে প্রথমে অ্যাস্ট্রাজেনেকা এবং ৪ সপ্তাহ ব্যাবধানে দ্বিতীয় ডোজ ফাইজার দেওয়া হয়। পরিণামে, অ্যাস্ট্রাজেনেকার দুটি ডোজ নেওয়া ব্যক্তিদের তুলনায় সেই ৮৩০ জনের রোগ প্রতিরোধে প্রতিক্রিয়া যথেষ্ট ভালো বলে দাবি করা হয় রিপোর্টে।
তবে ‘হু’-বক্তব্য, ‘এই প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা নিয়ে এখন বেশ কিছু গবেষণা চলছে। আমাদের এখনও অপেক্ষা করা দরকার।‘

