সাথী দাস, পুরুলিয়া, ৮ জুলাই: মহারাষ্ট্রের পুনের কামতায় পুরুলিয়ার বাসিন্দা পরিযায়ী শ্রমিকের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃত ওই পরিযায়ী শ্রমিকের নাম গোকুল রাজোয়াড়। বাড়ি পুরুলিয়া শহরের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের যমুনাবাঁধ পাড়ায়। পরিবারের অভিযোগ, মৃত্যুর ঘটনার ১৭ দিন পর জানতে পারেন তাঁরা। ঘটনাস্থলেই দেহ সৎকার হয়ে যাওয়ায় শ্রমিকের দেহ পায়নি পরিবার। মেলেনি ময়নাতদন্তের রিপোর্টও। খুন নাকি দুর্ঘটনা ধন্ধে রয়েছে পরিবার। মৃত্যুর ঘটনার তদন্তের পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন মৃতের পরিবার।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে শেষবারের মতো গোকুল রাজোয়াড় বাড়ি এসেছিলেন। তারপর আবার তিনি মহারাষ্ট্রে পাড়ি দেন কাজের জন্য। পরিবারের সাথে প্রায় দিনই মোবাইলে যোগাযোগ হতো তাঁর। চলতি বছরের ১৯ জুন ২০২১ শেষ বার পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা হয় গোকুলের। তারপর তাঁর ফোন বন্ধ হয়ে যায়। ওই ঠিকা সংস্থার সাথে যোগাযোগ করেও তাঁর খোঁজ মেলেনি বলে দাবি, মৃতের পরিবারের। এরপর গত ৬ জুলাই রাত ১০টা নাগাদ মহারাষ্ট্র থেকে ফোন আসে গোকুল রাজোয়াড়ের মৃত্যু হয়েছে। মৃতের পরিবারের লোকেরা জানতে পারেন চলতি বছরের ২০ জুন মহারাষ্ট্রের কামতার ড্যামের জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। দেহ সৎকারও হয়ে গিয়েছে আগেই।

মৃতের ভাই বিজয় রাজোয়াড় বলেন,”দাদার কীভাবে মৃত্যু হল। কে দায়ী? এর সবটাই অজানা আমাদের। এর তদন্ত চাইছি। দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি। তাঁর পাঠানো টাকাতে সংসারের অনেকটা আর্থিক সাহায্য হতো।”
এবিষয়ে জেলা পরিষদ সভাধিপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায় মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনার তদন্তের পাশাপাশি তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন।

