অনন্য রবীন্দ্রনাথ

অংশুমান মাহাতো
আমাদের ভারত, ৮ আগস্ট: আজ বাইশে শ্রাবণ। কবিগুরুর প্রয়াণ দিবস। ৮০ বছর আগে কবি যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত তাঁর ‘বাইশে শ্রাবণ, ১৩৪৮’ কবিতায় লিখলেন রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুযাত্রার বর্ণনা। “সহসা দেখা গেল — মরণের কুসুম কেতন জয়রথ!/মনে হল — কি বিচিত্র শোভা তোমার/কি বিচিত্র সাজ।” যে যতীন্দ্রনাথ সারাজীবন রবীন্দ্র বিরোধিতা করে এসেছেন, একটি কবিতার মধ্যে দেখিয়ে দিলেন তিনি কত বড় রবীন্দ্রভক্ত!

রবীন্দ্রনাথের জীবিতকালে তাঁর একটি বিপুল বিরোধী-গোষ্ঠী ছিল। সে খবর আমরা ‘শেষের কবিতা’ পড়লেই পাই। রবীন্দ্রনাথ এ বিষয়টি ভালোই জানতেন। তাঁর প্রয়াণের পরেও তাঁর বিরোধী-গোষ্ঠীর সীমা নেই। একেকটি মতাদর্শের মানুষের কাছে তিনি এক এক রূপে প্রতিভাত হন। কেউ তাঁকে বলেন ‘নারীবাদী’৷ কেউবা বলেন আন্তর্জাতিকতা-বোধ থেকে স্বদেশপ্রীতি তিনি উপেক্ষা করেছেন। কারও মত হল, রবীন্দ্রনাথ আগাগোড়াই Self contradictory, নিজেকেই নিজে বিরোধিতা করেছেন। এসব বিতর্কের ঊর্ধ্বে গিয়ে বলা যায়, রবীন্দ্রনাথ আসলে একটি প্রতিষ্ঠান। এই ধরনের বহুমুখী প্রতিভা বহুযুগে একবার জন্মায়।

তাঁর বিপুল সৃষ্টি, তাঁর বিপুল জনপ্রিয়তার মতই পাঠক-শ্রোতা-দ্রষ্টা সকলকে স্তম্ভিত-স্তব্ধ করে রাখে। রবীন্দ্র-প্রতিভার বিচার বা বর্ণনা করা ধৃষ্টতা। আজ তাই শুধু বলি — রবীন্দ্রনাথ বিশ্বকবি, ভারতের কবি, ভারতাত্মার কবি, বাঙালির প্রাণের কবি। রবীন্দ্রনাথ শুধু সাহিত্যিক নন; তিনি দার্শনিক, সমাজতাত্ত্বিক, শিক্ষাবিদ এবং দেশপ্রেমিক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *