পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ১১ এপ্রিল: কলকাতা ছাড়িয়ে শিশু পাচারের জাল এবার সীমান্ত অধ্যুষিত দক্ষিণ দিনাজপুরে। ৮ লক্ষ টাকা দিয়ে শিশু বিক্রি করতে এসে পুলিশের জালে ধরা পড়লো দুই বিক্রেতা। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার পতিরামের। রবিবার কলকাতা থেকে একটি শিশু বিক্রি করতে এসেই পুলিশের হাতে ধরা পড়েন কলকাতা নিবাসী দুই বিক্রেতা। সোমবার যাদের ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠায় পতিরাম থানার পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতরা হলেন শোভন কুমার সর্দার ও পিঙ্কি মান্না। পিঙ্কির বাড়ি কলকাতার সল্টলেকে হলেও দুজনেই কসবা থেকেই ওইদিন বালুরঘাটে এসেছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, রবিবার পতিরামে একটি শিশুকে বিক্রি করতে কলকাতার কসবা থানার অজয়নগর এলাকা থেকে শোভন কুমার সর্দারের নেতৃত্বে চারজনের একটি টিম পতিরামে এসে পৌছায়। শিশু ও গাড়ির চালক সহ এক মহিলাকে গাড়িতে রেখে কিছুটা পায়ে হেটে পতিরামের রোলার মোড়ে এসে বিক্রেতার সাথে যোগাযোগ শুরু করেন ধৃত শোভন ও পিঙ্কি। এদিকে এই গোপন খবর পতিরাম থানার পুলিশের কাছে পৌঁছাতেই ওসির নেতৃত্বে একটি বিরাট টিম এলাকায় পৌঁছে ধৃতদের আটক করে শুরু করে জিজ্ঞাসাবাদ। যেখানেই পুলিশ জানতে পারে পতিরাম সংলগ্ন এলাকায় একটি বাচ্চা বিক্রি করবার জন্যই কলকাতা থেকে তাদের চারজনের একটি টিম এসেছিল সেখানে। ৮ লক্ষ টাকার বিনিময়ে সেই বাচ্চাটি তুলে দেবার কথা ছিল ক্রেতার হাতে। যদিও ওই দুইজনকে পুলিশ তাদের হেফাজতে নিতেই শিশুটিকে নিয়ে এলাকা ছেড়ে পালাতে সক্ষম হয় গাড়ির চালক সহ অপর এক অভিযুক্ত মহিলা। যাদের খোঁজে ইতিমধ্যেই তদন্তে নেমে পড়েছে পতিরাম থানার পুলিশ। শুধু তাই নয়, ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ফোন নম্বর দিয়ে ওই ক্রেতারও সন্ধান চালাচ্ছে পুলিশ। টাকার বিনিময়ে শিশু বিক্রির এই চক্র বেশকিছুদিন ধরেই গোটা রাজ্যজুড়ে চলছিল বলেও ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পেরেছে পুলিশ। কলকাতা ও তার আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সদ্যোজাত এইসব শিশুদের নিয়ে এসে মোটা টাকার বিনিময়ে বিক্রির এই কারবার চলছিল বলেও জানতে পেরেছে পুলিশ। এদিন ধৃত ওই দুজনকে বালুরঘাট জেলা আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ডের আবেদন জানিয়েছে পতিরাম থানার পুলিশ।
ডিএসপি (ডিইবি) গৌরব ঘোষ জানিয়েছেন, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে একাধিক শিশু বিক্রির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে পুলিশ। যা তদন্তের স্বার্থে গোপন রাখা হয়েছে। তবে আট লক্ষ টাকার বিনিময়ে একটি শিশু বিক্রি করতে এসেছিল তারা এমনটাই জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পেরেছেন। ধৃতরা দুজনেই কলকাতার বাসিন্দা। যাদের বিরুদ্ধে ৩৭০ ও সারগেসি ধারায় মামলা রুজু করে এদিন আদালতে পাঠানো হয়েছে।

