আমাদের ভারত, কলকাতা, ১৩ সেপ্টেম্বর: শিক্ষার্থী, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও পেশাদারদের নিয়ে স্কটিশ চার্চ কলেজে অনুষ্ঠিত হলো দু’দিনের আন্তর্জাতিক সেমিনার ও ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং কর্মসূচি। শুক্র ও শনিবার এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে অংশ নেন বহু ছাত্র- ছাত্রী ও গবেষক।
স্কটিশ চার্চ কলেজের বিসনেস এডমিনিস্ট্রেটর বিভাগ ও ইনস্টিটিউট অফ কস্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অফ ইন্ডিয়ার সহযোগিতায় এবং কলেজের ইনোভেশন সেলের সঙ্গে যৌথভাবে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। অধ্যক্ষ ড: মধুমঞ্জরি মণ্ডল, উপাধ্যক্ষ ড: সুপ্রতিম দাস এবং বিসনেস এডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের প্রধান ড: সিএমএ বিভাষ আচার্যের নেতৃত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ১০টি বাইরের কলেজের ছাত্র- ছাত্রী অংশ নেন। মোট ৪৩৫ জন শিক্ষার্থী এই কর্মসূচিতে যোগ দেন। পাশাপাশি ‘বিকশিত ভারত’ ভাবনাকে কেন্দ্র করে চারটি পৃথক ক্ষেত্রে মোট ২৫টি গবেষণাপত্র উপস্থাপিত হয়।

প্রথম দিন, মূলত ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং ও অ্যাকাডেমিক এনগেজমেন্ট- এর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিভিন্ন পেশা ও শিক্ষাক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার সুযোগ পান পড়ুয়ারা। সিএমএ ড: ডি. পি. নন্দী, ইনস্টিটিউট অফ কস্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অফ ইন্ডিয়ার সচিব, অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। পেশাজীবী ও শিক্ষাবিদদের উপস্থিতিতে পড়ুয়ারা বিভিন্ন শিক্ষাগত ও পেশাগত ক্ষেত্র সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি জানার সুযোগ পান। ভবিষ্যৎ পেশা নির্বাচনের ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত, উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা এবং কর্মজীবনের প্রস্তুতির গুরুত্ব নিয়েও আলোচনা হয়।
দ্বিতীয় দিন অনুষ্ঠিত হয় ‘বিকশিত ভারত @ ২০৪৭: মাল্টিডিসিপ্লিনারি রিসার্চ ফর ইনোভেশন, সাসটেনেবিলিটি অ্যান্ড ইনক্লুসিভ ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেমিনার। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি বিদেশের শিক্ষাবিদ ও গবেষকরাও এই পর্বে অংশ নেন। ইনস্টিটিউট অফ কস্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অফ ইন্ডিয়ার সভাপতি সিএমএ চিত্তরঞ্জন চট্টোপাধ্যায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সেমিনারে জাপানের ওতারু ইউনিভার্সিটি অফ কমার্সের
অধ্যাপক তোমোহিকো কোবায়াশি এবং বাংলাদেশের ইসলামিক ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক আরবিন্দ সাহা- সহ বিদেশি বক্তারা বক্তব্য রাখেন। এছাড়াও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়- সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদরা আলোচনায় অংশ নেন।
গবেষণাপত্র উপস্থাপনা ছিল এই সেমিনারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণ। মোট ২৫টি গবেষণাপত্র চারটি পৃথক ক্ষেত্রে উপস্থাপিত হয়। উদ্ভাবন, স্থায়িত্বশীল উন্নয়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের আমতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে গবেষকরা তাঁদের মতামত ও গবেষণার ফলাফল তুলে ধরেন।
অধ্যক্ষ ড: মধুমঞ্জুরি মন্ডল বলেন, এই দু’দিনের কর্মসূচির মাধ্যমে পড়ুয়াদের ক্যারিয়ার সম্পর্কে সচেতন করার পাশাপাশি গবেষণা ও বহুমুখী শিক্ষাচর্চার ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ তৈরি হয়। ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যকে সামনে রেখে উদ্ভাবন, স্থায়িত্বশীলতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের বিষয়ে ছাত্র- ছাত্রী, গবেষক ও শিক্ষাবিদদের মধ্যে মতবিনিময়ই ছিল এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

